টাইমস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে এবার যথাযথ রাজস্ব আদায়ের হিসাব কষছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর এ জন্য করা হচ্ছে কঠোর নজরদারি।এ বছর বাণিজ্য মেলা থেকে ১০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এনবিআরের বোর্ড সভায় এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একগুচ্ছ কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দা অধিপ্তরের ১৭ কর্মকর্তা রাজস্ব ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে কাজ করছেন। মেলার প্রথম দিন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে এনবিআরের অস্থায়ী দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে রাজস্ব দপ্তর স্থাপন করে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের (পশ্চিম) ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পালাক্রমে উপস্থিত থেকে রাজস্ব আদায় করছেন।

এখানে সোনালী ব্যাংকের বুথ করা হয়েছে। মেলার প্রথম দিনই ১০৪ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে বলে জানান এনবিআর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে অনুুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলা থেকে হিসাব মতো রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। কী কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়নি, তা বিশ্লেষণ করে এবারে এনবিআর আগেভাগে বাণিজ্য মেলা থেকে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে কৌশল নির্ধারণ করেছে। মেলা থেকে এনবিআর কর্মকর্তারা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হলে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

কাস্টমস এক্সসাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের (পশ্চিম) কমিশনার সহিদুল ইসলামকে এবারে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে রাজস্ব আদায়ে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

সহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘মেলার প্রথম দিন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে এনবিআরের দপ্তর স্থাপন করে রাজস্ব আদায়ে আমরা কাজ করছি। এবারে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে চেষ্টা হিসেবে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়া ১০০ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে বাকি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। মেলা শেষ হলে এ ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর বাতিল করা হবে।

’এনবিআর সূত্র জানায়, গতবারের বাণিজ্য মেলা থেকে আদায় হয় প্রায় ছয় কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর আগের বছরের বাণিজ্য মেলা থেকে আদায় হয় এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গতবারের বাণিজ্য মেলায় ১২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ কোটি টাকা বেশি ছিল। গতবারে ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া যায়। মেলায় বিক্রীত সব পণ্যের ওপর একই হারে ভ্যাট আদায় প্রযোজ্য নয়। পণ্যভেদে ৪ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় হয়। এ ক্ষেত্রে গড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ে হিসাব কষা হয়।

বাণিজ্য মেলা থেকে রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা চেয়ে গত সপ্তাহে ঢাকা ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়া স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নাম, মূল দপ্তরের ঠিকানা, প্রকৃত ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানকারী ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে।

কাস্টমস এক্সসাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের (পশ্চিম) কমিশনার সহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মেলায় ১৫ দিন পর হতে এনবিআর মেলায় অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চিঠি পঠিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের শুল্ক পরিশোধের পক্ষে প্রমাণ দাখিলের বিষয়ে বলবে।

এবারের ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, সাধারণ প্যাভিলিয়ন, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, বিদেশি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়নসহ ফুড স্টল, রেস্টুরেন্ট ও শিশু পার্ক আছে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/আশা/হায়াত/এসএস/ ৫ জানুয়ারী, ২০১৭