নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সিপিডির ফেলো আরও বলেন, শুধু সড়ক নির্মাণ নয়; বাংলাদেশের প্রত্যেক প্রকল্পে অনেক বেশি ব্যয় করে সরকার। বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হলেও এসব বিনিয়োগের গুণগত মান নেই। বিনিয়োগ এবং প্রকল্পের মান ঠিক রাখতে প্রত্যেক প্রকল্পে স্বচ্চতা আনা জরুরি।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তিনটি সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি, সরকারি বিনিয়োগের গুণগত মান, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও ব্যাংকিং খাত।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। শুধু জেলা পরিষদ নির্বাচন দিলেই হবে না। অবকাঠামোসহ আর্থিক সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। রপ্তানি আয় বাড়াতে গামেন্টস খাতের পাশাপাশি অনান্য রপ্তারিমুখী খাতের গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের কাছে সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামষ্টিক অথনীতি আরও সবল করতে তিনটি খাতে আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এর মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সামঞ্জস্য আনা, সঞ্চয়পত্র কেনার মাত্রা নির্ধারণ এবং সেটাকে একটা ইলেক্টোরাল পদ্ধতিতে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা; যাতে একই ব্যক্তি বিভিন্ন নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে না পারেন। একইসঙ্গে এটাকে অবশ্যই আয়করের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, টাকার বিনিময় হারে সামঞ্জস্য বিধান করা। ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকের টাকার বিনিময় হারে ৩ থেকে ৫ টাকা পার্থক্য আছে। এখানে সামঞ্জস্যতা বিধান করা প্রয়োজন। অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এর প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় করা সহজ হবে। নতুন মুদ্রানীতির আগেই বিনিময় হারে সামঞ্জস্যতা আনতে হবে। এটা করা হলে রেমিটেন্স ও রপ্তানি খাত ‍দুই ক্ষেত্রেই আমরা সরাসরি উপকৃত হবো। রেমিটেন্স বাড়ার সঙ্গে রপ্তানির নাজুক ভাব অনেকটা কাটবে।

তৃতীয়ত, তেলের দাম কমানো। তেলের দামে সামঞ্জস্য করলে ব্যক্তিখাতের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরেকটু সবল হবে। এছাড়া আরও কয়েকটি খাতে গুরুত্ব দিলে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের অথনীতি ইতিবাচক ধারায় থাকবে।

এসময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/আশা/হায়াত/নীরব/ ৭ জানুয়ারী, ২০১৭