বেশ কিছু সময় পর ম্যাচ উইনার সৌম্য সরকারের দেখা মিলল। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। আইরিশদের ১৮১ রানে বেঁধে ফেলে শুরুতে কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররা। সৌম্য-তামিম-সাব্বিরদের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট আর ২২.৫ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তবে তামিম এদিন হাফ সেঞ্চুরি মিস করেছেন; অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ ব্যর্থতার পর আজ রান পেয়েছেন সাব্বির রহমান।

আইরিশদের দেওয়া ১৮২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার মিলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু ৩৬তম হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান তামিম। তাকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন কেভিন ওব্রেইন। ৫৪ বলের ইনিংসটিতে তিনি ৬টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। তবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ঠিকই টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য সরকার। ৪২ বলে এই মাইলফলকে পৌঁছতে ৬টি চার এবং ২টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান তিনি।

সাব্বির দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সৌম্যকে। টানা দুই ম্যাচ ব্যর্থতার পর তাকে স্বরুপেই দেখা গেছে আজ। দারুণ খেলতে খেলতে দল যখন জয়ের বন্দরে; তখন হঠাত ধৈর্য্য হারিয়ে আউট হয়ে যান এই হার্ডহিটার। তার ৩৪ বলে ৩ চার এবং ১ ছক্কায় ৩৫ রানের ইনিংসটি শেষ হয় ম্যাকক্যার্থির বলে ক্যাচ দিয়ে। তবে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছাড়েন সৌম্য।

এর আগে ডাবলিনের মালাহাইডে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের বোলিং তোপে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরু থেকেই দুর্দান্ত বাংলাদেশের বোলাররা। রুবেলের করা প্রথম ওভার মেডেনের পর দ্বিতীয় ওভারে পল স্টার্লিংকে আউট করে মেডেন উইকেট নেন মুস্তাফিজ। আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড একটু হাত খোলার চেষ্টা করতেই তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে শুরু করেন তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আইরিশ দূর্গে তৃতীয় আঘাত হানেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার ঘূর্ণিবল বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান ১২ রান করা অ্যন্ডি ব্যালব্রেইন।

চতুর্থ উইকেটে এড জয়েস এবং  নেইল ওব্রেইনের ৫৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আইরিশরা। কিন্তু কাটার মাস্টার আছেন না? তার বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান নেইল ওব্রেইন (৩০)। এরপর মঞ্চে আবির্ভাব অভিষিক্ত সানজামুল ইসলামের। প্রথম ওভারেই এড জয়েসকে (৬) তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত করে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট তুলে নেন তিনি।

আইরিশদের তখন ঘোর বিপদ। জোড়া আঘাতে সেই বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। একবার জীবন পাওয়া কেভিন ওব্রায়ানকে (১০) মোসাদ্দেকের তালুবন্দী করেন তিনি। এখনেই শেষ নয়; দ্য ফিজের শর্ট বলে আয়ারল্যান্ডের শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসন (৬) মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী হন। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বলটি আসলে উইলসনের পায়ে লেগেছিল। ম্যাককার্থিকে (১২) এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে আইরিশদের ৮ম উইকেটের পতন ঘটান অভিষিক্ত সানজামুল। এরপর মাশরাফির জোড়া আঘাতে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। মুস্তাফিজ ৪টি, অধিনায়ক মাশরাফি এবং অভিষিক্ত সানজামুল ২টি করে আর সাকিব-মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট নেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/আইচ কে/ ১৯ মে ২০১৭