স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক বৈশিষ্টে্যর কারণে সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন। ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত এ বনের ওপর পড়তে পারে বিরূপ প্রভাব। তার পরও সবার আশা, সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য থাকবে অটুট

সুন্দরবনে বিলুপ্ত স্তন্যপায়ী প্রজাতি

সারা দেশে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আনুমানিক মোট প্রজাতি ১১,৮০০। এর মধ্যে সুন্দরবনে রয়েছে ২,২০০। সারা দেশে চিহ্নিত প্রজাতির সংখ্যা ৭,৯৭৩। এর মধ্যে সুন্দরবনে রয়েছে ১,৫১৫।
হরিণ
হরিণের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ হাজার হরিণ শিকার করা হয়
নোনা পানির কুমির
নোনা পানির কুমির এখন শুধু সুন্দরবনেই দেখা যায়। ১৫০ থেকে ২০০টি কুমির রয়েছে
কাঁকড়া
বছরে বনজীবীরা প্রায় দেড় হাজার টন কাঁকড়া সংগ্রহ করেন
মাছ ও চিংড়ি
দেশের মোট মাছের চাহিদার ৩০ শতাংশ জোগান দেয় সুন্দরবন
ডলফিন
মোট চার প্রজাতির ৬ হাজার ডলফিনের দেখা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে সুন্দরবন এলাকায়
শ্বাসমূলীয় বন
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী হিমালয় থেকে সৃষ্টি হয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে মিশেছে। বঙ্গোপসাগরের মোহনার নোনা পানি আর এ তিন নদীর মিষ্টি পানি মিলেমিশে একাকার হয়েছে। পানির সঙ্গে আসা পলি জমে যে বদ্বীপের সৃষ্টি, তাতেই সুন্দরবন গড়ে উঠেছে। এ ধরনের বন উপকূলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-উত্তাল তরঙ্গ ও জোয়ার-ভাটায় ভাঙন প্রতিরোধ করে। ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদের শ্বাসমূলের কারণে তা মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর কাছে এক আকর্ষণীয় আশ্রয়। তারা খাবার এবং শিকারি প্রাণীদের কাছ থেকে আত্মরক্ষার জন্য এ ধরনের বনে আশ্রয় নেয়। ছোট মাছ, শামুক, কাঁকড়া, চিংড়ি ও পাখিদের আবাস হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন অনন্য। কার্বন শোষণের মাধ্যমে এ ধরনের বন বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সহায়ক। তা ছাড়া এরা প্রবাল ও ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের আবাসের মতো আশপাশের বাস্তুসংস্থানে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
মোট বনভূমি
জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক সংস্থা এফএওর হিসাবে দেশে বনভূমি ১৫ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে সুন্দরবন ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। তবে এই সুন্দরবন ২ হাজার বছর আগে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার ছিল
উদ্ভিদ প্রজাতি
সুন্দরবনের মোট উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা ৩৩৪টি। লতাগুল্ম থেকে শুরু করে মাঝারি ও উঁচু—সব ধরনের বৃক্ষই সুন্দরবনে রয়েছে। একসময় সুন্দরবনে ফলদ বৃক্ষও প্রচুর ছিল। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় এই ফলদ বৃক্ষ কমে গেছে। বিশ্বে মোট ৪৮ প্রজাতির শ্বাসমূলীয় বৃক্ষ রয়েছে। যার ১৯ প্রজাতিই সুন্দরবনে দেখা যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা বা পরিণত বৃক্ষ হিসেবে সুন্দরীকে মনে করা হয়। সুন্দরবনের ১১ শতাংশ এলাকাজুড়েই রয়েছে এই সুন্দরীগাছ
শঙ্খচূড় বা রাজগোখরা
সুন্দরবনের সরীসৃপজাতীয় প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় শঙ্খচূড় বা রাজগোখরাকে। বিশ্বজুড়ে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা এই সাপটিকে ইংরেজিতে কিং কোবরা নামে ডাকা হয়
ভোঁদড়
এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি এখন শুধু সুন্দরবনেই দেখা যায়। কয়টি রয়েছে তার কোনো হিসাব নেই
বেঙ্গল টাইগার
১৯৩০ সালে দেশের ১১টি জেলায় বাঘ ছিল। এখন শুধু আছে সুন্দরবনে। ২০০৪ সালে বন বিভাগ ও ইউএনডিপির জরিপে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি
তথ্য সূত্র: বন বিভাগ, বিশ্বব্যাংক, এফএও, বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল (ডব্লিউডব্লিউএফ), রেজা খান সম্পাদিত বই সুন্দরবন: রিডিসকভারিং সুন্দরবন (২০১৪), ড. ইসতিয়াক সোবহান, ড. মনিরুল এইচ খান। ছবি: গন্ডার, কাঁকড়াভুক ব্যাঙ ও শঙ্খচুড়—রেজা খান। বেঙ্গল টাইগার—মনিরুল এইচ খান। ভোঁদড়, মাসকেট ফিনফুট বা মুখোশধারী জলার পাখি—সায়েম। ডলফিন—জাহাঙ্গীর আলম। কুমির—তৌহিদুর রহমান। প্রজাপতি—মির্জা আহসান কবির। গুইসাপ ও দুইটি পাখি—সীমান্ত দীপু