ইসমাঈল সিরাজি, ঢাকা: রোববার থেকে গণপরিবহনে ‘সিটিং সার্ভিস’বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা মানছেন না অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক। আগে সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলা বাসগুলো নতুন নিয়মের তোয়াক্কা না করে আগের মতোই ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। তবে ভাড়া সিটিং সার্ভিসের থাকলেও চলছে লোকাল সার্ভিসের মতই। এতে করে যেমন যাত্রী হয়রানি বেড়েছে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরিবহণ খাতের নৈরাজ্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো সিটিং সার্ভিস হিসেবে ভাড়া আদায় নিয়ে বাসে বাসে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও হেলপারকে বাক-বিতণ্ডা করতে দেখা গেছে।

মালিক সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে লোকাল হিসেবে চলাচল করার কথা বাসগুলোর। নিয়ম অনুযায়ী বাস প্রতিটি স্টপেজে দাঁড়াবে এবং লোকাল হিসেবে ভাড়া নেবে। এদিন থেকে ঢাকায় কোনো বাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলবে না এবং সে অনুযায়ী ভাড়াও আদায় করা যাবে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) দেয়া ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী তা আদায় করতে হবে। কিন্তু কোনো পরিবহনই এ নিয়ম মানছে না।

dhaka_bus_4

ওয়েলকাম, লাব্বাইক, স্বজন, ইন্টারসিটি, নিউভিশন, তানজিল, মিরপুর মিশন, বসুমতি, পরিস্থান, এভারেস্ট, দিশারী, বিকল্প, আশীর্বাদসহ অধিকাংশ বাসই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিটিং সার্ভিস হিসেবে আগের মতো চলাচল করছে। লোকাল হিসেবে যাত্রী তুললেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সিটিং সার্ভিসের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়েলকাম পরিবহনের হেলপার জানান, আমাদের বাস সিটিং হিসেবেই চলছে। মালিকপক্ষ আমাদের কোনো নিদের্শনা দেয়নি। মালিকপক্ষ নতুন করে কোনো নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই ভাড়া আদায় করা হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, অস্বাভাবিক ‘গলাকাটা’ ভাড়া আদায়ের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত সিটিং সার্ভিস বন্ধে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তারা বলছে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা হলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠিক আগের মতোই আছে। ফলে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

dhaka_bus_5
সিটিংয়ের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় এ সার্ভিস বন্ধ করা হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নগরীর বিভিন্ন রুটে অধিকাংশ মালিক তাদের যানবাহন বন্ধ রেখেছে। যেসব যানবাহন চলেছে সেগুলো লোকাল হিসেবে যাত্রীবোঝাই করে যাতায়াত করলেও সিটিংয়ের মতোই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

সরকার ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঘোষিত যাত্রীবান্ধব এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নগরীর যাত্রী সাধারণকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ বলেন, ভাড়া নির্ধারিত থাকবে। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও থাকবে। সুতরাং অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই। তবুও কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, পরিবহন মালিকরা সম্মত হয়েছেস কোনো বাস এখন সিটিং চলবে না। কোনো বাস বেশি ভাড়া নিতে পারবে না। নির্ধারিত ভাড়ার যে তালিকা রয়েছে তা বাসে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। যাতে যাত্রীরা তালিকা দেখে ভাড়া মেটাতে পারেন।

dhaka_bus_6

তিনি বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের কোনো অনুমোদন নেই। অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু সিটিং সার্ভিস বন্ধ নয়, যাত্রী হয়রানি রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে অভিযান চলবে। আসাদগেট, বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডে সড়কের পশ্চিম পাশে, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে, আগারগাঁওয়ে (আইডিবি ভবন), যাত্রাবাড়ী চাইপাই রেস্টুরেন্টের সামনে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। সপ্তাহে তিন দিন অভিযান চলবে বলে তিনি জানান।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/কামরুল/নীরব/ ১৭ এপ্রিল ২০১৭