সাফাতকে জন্মদিনে ভার্জিন মেয়ে উপহার দিতে চেয়েছিল নাঈম জন্মদিনে ফুর্তি করার জন্য প্রফেশনাল না এমন তরুণীর সঙ্গ চেয়েছিলেন সাফাত। তাই বন্ধুকে জন্মদিনে ভার্জিন মেয়ে উপহার দিতে চেয়েছিলো নাঈম আশরাফ। তাই সিদ্ধান্ত নেয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ডাকার। এ সময় তাদের পাশেই ছিল গাড়িচালক বিল্লাল।

রিমান্ডে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল এসব কথা জানায়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গাড়িচালক জানিয়েছে, সাফাত ও নাঈম ওই ঘটনার আগে অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। নিত্য নতুন মেয়েদের কোনো রেস্টুরেন্টে ডেকে পরিচয় হতো। এরপর নির্জন কোনো হোটেলে নিয়ে তাদের সর্বনাশ করতো। কেউ মুখ খুলতে চাইত না। তাদের অনেককেই টাকা দিত। কাউকে ডায়মন্ডের কোনো কিছু গিফট করতো। আবার কাউকে ভয় দেখাত। এর আগেও সাফাত ও নাঈম অনেক ধর্ষণের ভিডিও করেছে বলেও জানায় গাড়িচালক।

বিল্লাল ডিবির কাছে আরো জানায়, ওই রাতে ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা নাঈম আশরাফ। ঘটনার আগে পরিকল্পনায় নাঈম যদি প্রফেশনাল চলবে না, নন-প্রফেশনাল দরকার- এসব কথা না বলতো, তবে এমনটি হতো না। সব নাটের গুরু ওই নাঈম আশরাফই।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে যায়। হোটেলে তাকে রেখে বনানীর আগোরার সামনে থেকে সাফাতের এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায়। তাকে নিয়ে বনানীর ১১ নম্বরে যায়। সেখান থেকে সাফাতের আরও এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায় বিল্লাল। দুইজনকে নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হোটেলে ফেরে বিল্লাল। সেখানে তখন নাঈমও অবস্থান করছিল।

দুই মেয়েকে রেখে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নিচে সে অবস্থান করে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান থেকে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে নিয়ে হোটেলে যায় বিল্লাল। রাত ১০টার দিকে সাফাতের দুই বান্ধবীকে নিয়ে সে হোটেল ত্যাগ করে। পরে রাত ৪টার দিকে আবার হোটেলে যায়। সাফাত তাকে (বিল্লাল) দুই কক্ষের ফলস পার্টিশনের পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করতে বলে। এ সময় সে সেখান থেকে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে।

বিল্লাল আরো জানায়, জন্মদিনের পার্টিতে দুই তরুণীকে রাতভর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই নির্যাতক সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম)। গর্ভধারণ রোধে দুই তরুণীকে সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ায় তারা। নির্যাতিত দুই তরুণীর এক চিকিৎসক বন্ধু সেই বড়ি খাওয়ার জন্য নিষেধ করে। এ কারণে সেই বন্ধুকে মারধর করে সামনে ইয়াবা রেখে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে বিল্লাল। তারপর সাফাত ও নাঈম বলে, ‘এই ঘটনা যদি কাউকে বলিস, তবে ইয়াবার মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব। তোদের ইয়াবাখোর বানিয়ে দেব।’

জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর পর দুই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনারও ভিডিও ধারণ করে বিল্লাল।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/আইএস/ ১৮ মে ২০১৭