সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খানের কাছে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন একটি চিঠি লিখেছেন। ১৫ মার্চ তিনি তাকে যে চিঠি লিখেছেন সেই চিঠি তার বাসায় যেমন পাঠিয়েছেন। তেমনি তার ফেসবুকেও প্রকাশ করেছেন।

ওই চিঠিতে সৈয়দ আবুল হোসেন আকবর আলী খানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আপনার কাছ থেকে বিশ্বব্যাংকের এ স্বেচ্ছাচারিতা ও মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আমি কোন সমবেদনা প্রকাশ বা সহানুভুতি এখনো পাইনি। সত্যের প্রতি অবিচল ও আনুগত্যশীল থাকা, সত্যে নিজেকে সমর্পণ করা ও সত্য প্রকাশে সাহসী হওয়া-একজন সত্যিকার মানুষের প্রতিচ্ছবি। এখন সত্য উদ্ভাসিত, মিথ্যা দূরীভূত-আপনি কিছু বলুন। সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করুন।

ওই চিঠিতে আবুল হোসেন তার চিরাচরিত স্বভাবে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিনয়ের সঙ্গে তার মনের কথা লিখেছেন। সেই সঙ্গে তিনি তাকে অনুরোধ করেছেন, তিনি যে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য। সত্য প্রকাশ করার জন্য।

সৈয়দ আবুল হোসেন তার চিঠিতে লিখেছেন, আপনি বাংলাদেশের একজন লিভিং সিনিয়র সিটিজেন। আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের একজন সুপরিচিত সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব,  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। আপনি শিক্ষকতা করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন। আপনি লেখেন এবং কথা বলেন-টিভির টকশোগুলোতে। আমি আপনার লেখা ও বলা কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনি। সব কথা ও লেখার সাথে একমত না হলেও আপনার লেখাগুলো, কথাগুলোর সারবত্তা আমাকে নাড়া দেয়। আমার চিন্তাশক্তি নতুনভাবে পুনঃসন্নিবেশিত হয়। আপনার অভিজ্ঞতাকে, আপনার বক্তব্যকে, আপনাকে আমি তাই শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি।

আপনি জানেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের এক মিথ্যা অভিযোগে আমার জীবনে অর্জিত সততাকে, রাজনৈতিক জীবনকে, আমার ব্যক্তিজীবনকে কিভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। কিভাবে আমাকে, আমার পরিবারের ব্যাংক হিসাব গ্লোবালি সার্চ করা হয়েছে। আমাকে জেলে ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের সুধিসমাজ কিভাবে আমার সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কেউ আমার কথায় আশ্বস্ত হয়নি, কেউ আমাকে বিশ্বাস করেনি। আজ কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ গাল-গল্প, আজগুবি ও মিথ্যা বলে রায় হওয়ায় আমি অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আপনি সে সময় পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। আমার মনে পড়ে, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনে, সম্ভবত ফোর্বস, যখন বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির চিত্র, বিশেষ করে, বিশ্বব্যাংকের ইন্ট্রিগ্রিটি বিভাগের দুর্নীতি প্রকাশিত হয়-তখন আপনি বলেছিলেন-একটি অখ্যাত ম্যাগাজিনের সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংককে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যায় না। অথচ এ ম্যাগাজিনটি পৃথিবীর বড় বড় এয়ারলাইনস ও হোটেলে পাওয়া যায়। কানাডার আদালতের রায় প্রমাণ করে বাংলাদেশে সৎ লোক আছে এবং বিশ্বব্যাংকের  সততা ও ইন্ট্রিগ্রিটি প্রশ্নবিদ্ধ। আপনি বিশ্বব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক ছিলেন, আপনি বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম ও দুর্নীতির সম্পর্কে সম্যক অবগত।

আমার জীবদ্দশায় বিশ্বব্যাংকের একটি মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি। যেদিন বাংলাদেশে কানাডার আদালতের রায় মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়-সেদিন আমার একটি বক্তব্য মিডিয়ায় পাঠিয়ে, পূর্ব নির্ধারিত সফরে আমি চীন চলে যাই। পরবর্তীতে মিডিয়ায় দেখেছি- সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং দেশের স্বনামধন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডা. এ. কিউ. এম. বদরুদোজ্জা চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি লে. জে. (অব.) হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, প্রবন্ধ লিখে আমাকে ইতিবাচক কথা বলে ধন্যবাদ দিয়েছেন, আমার সততার প্রশংসা করেছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ব্যক্তিবর্গ আমার প্রতি ইতিবাচক ও সহানুভূতিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য আমাকে সম্মানিত করেছে, গৌরবান্বিত করেছে। ভেবেছিলাম, আমার প্রত্যাশা ছিল- আপনিও দেশের সিনিয়র সিটিজেন ও অভিভাবক হিসেবে এ রায় সম্পর্কে ইতিবাচক ও সত্য কথা বলে আমাকে সান্তনা দেবেন। আমার প্রতি সহানুভূতি জানাবেন।

কিন্তু আপনার কাছ থেকে বিশ্বব্যাংকের এ স্বেচ্ছাচারিতা ও মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আমি কোন সমবেদনা প্রকাশ বা সহানুভুতি এখনো পাইনি। সত্যের প্রতি অবিচল ও আনুগত্যশীল থাকা, সত্যে নিজেকে সমর্পণ করা ও সত্য প্রকাশে সাহসী হওয়া-একজন সত্যিকার মানুষের প্রতিচ্ছবি। এখন সত্য উদ্ভাসিত, মিথ্যা দূরীভূত-আপনি কিছু বলুন। সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করুন।

আবুল হোসেন চিঠির শেষে তার দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবন কামনা  করে চিঠি শেষ করেছেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/হায়াত/ নিরব/এস আর/১৬ মার্চ ২০১৭