রাজধানীসহ সারা দেশব্যাপী সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষার মান উন্নয়নে আস্থাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবকগণ। সরকারী পাঠ্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে আসা মাত্রই শিক্ষকগণ গাইড বুক কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। অযোগ্য, অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যের কারনেই সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি স্বেচ্চাচারিতার মাধ্যমে ঠেলে দিচ্ছেন ধ্বংসের মুখে।একদিকে কোচিং বানিজ্য অন্যদিকে গাইড বুকের প্রতি শিক্ষকগণ আস্থা আনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি পাঠদানে অনিহা প্রকাশ করেন অভিভাবকগণ । বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষিকাগণ শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেণির সুযোগ সুবিধা নিয়ে অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করছেন।

শিক্ষার সু-শাসন ও সুষ্ঠ পরিবেশে গড়ে ওঠা মান সম্মত প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষার মান উন্নয়নে অনেকটাই এগিয়ে আছে। সমাজের নিম্ন বিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সংসারের অভাব অনটনের কারণে ভাল কোন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার খরচ যোগানো সম্ভব  হয়ে ওঠেনা। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের শিক্ষার আলো প্রসারিত করে শিক্ষার মান মর্যাদায় মানুষের মত মানুষ হবে সে  চেষ্টায় সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে শিক্ষার মান উন্নয়নে আসাতিত আভিভাবকগণ গাইডবুক কেনা ও বছর ব্যাপি কোচিং খরচের ভুগান্তি পোহাতে হয়। ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেনী শিক্ষার্থীদের প্রতি নানামুখী চাপ সৃষ্টি করেছে শিক্ষকগণ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জানুয়ারীতে পাঠ্য বই দেশব্যাপী বিনামূল্যে বিতরণ করা সত্বেও শিক্ষকগণ, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের নিকট হতে অর্থ লুফে নিতে গাইডবুক ও কোচিং বানিজ্যে ঝুকে পড়ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গাইডবুক বিক্রেতা মালিকগণ অগ্রিম সুবিধাদানে প্রচারনা করছেন। শিক্ষকদের ফলপ্রসূতে মুখস্ত বিদ্যায় মেধাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীগণ।

বর্তমান সরকারী-বেসরকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ) পরিচালনা কমিটি, ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি নাম মাত্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক ও ম্যানেজিং কমিটির পরিচালনা অবহেলা করার কারনেই দিনদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা  হ্রাস পেতে থাকে। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, নানা খাতে আদায়কৃত অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্বসাৎ করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বছরের ১লা  জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পযর্ন্ত শিক্ষার্থীদের আদায়কৃত অর্থ স্কুল ব্যাংকে নিয়ম মাফিক জমা না দেয়া। উত্তীর্ণ পিএসসি, জেএসসি ও এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের প্রশংসা পত্র প্রদান করে আদায় কৃত অর্থ হিসাব অত্বসাৎ করা। সরকারী অনুদানের আদায় কৃত অর্থ অত্বসাৎ ও নিজের চাকুরী বহাল রাখার জন্য শিক্ষকবৃন্দদের মধ্যে দলীয়করণ সৃষ্টি করেন। বর্তমান শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ সম্পূর্ন বিলুপ্তির পথে। শতকরা ৯৫% প্রধান শিক্ষক শ্রেনীতে পাঠদান হতে বিরত থেকে মিথ্যা ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচের মিথ্যা ভাউচার বানানোর যান্ত্রিক হিসেবে নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন।

অনেকেই কমিটির প্রধানের সাথে সু-সর্ম্পক রেখে নীতি বর্হিভূত কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষার্থী সু-সর্ম্পক রাখলেও শিক্ষক ও কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সু-সম্পর্ক নেই। এ ভাবে চলতে থাকলে এক সময় আমাদের এই বাংলাদেশ মেধা শুন্যে পরিনত হবে। যে কারনে সমাজের সচেতন নাগরিকগণ সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপের আশা করছেন।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
বাদশা আলমগীর