সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম : সিম চাষে ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে আব্দুল জলিলের। রিক্ত হস্তে শুরু করে সিম চাষকে পেশা হিসেবে গ্রহণের পর তিনি এখন স্বাবলম্বী।

সরেজমিন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার পাঠক গ্রামের আব্দুল জলিলের সিম ক্ষেতে কথা হয় তার সাথে। এ সময় সিম ক্ষেতে তার স্ত্রী সন্তান সহ অন্যদের কাজ করতে দেখা যায়। আঃ জলিল জানান , পরিবার-পরিজন নিয়ে যখন কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর দিনাতিপাত করতাম , ঠিক সেই সময় স্বল্প খরচে অল্প সময়ে সিম চাষ করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হই। এরপর সিম চাষের মনস্থ করি। কিন্তু নিজের .৭ শতক ভিটে মাটি ছাড়া আর কোন আবাদি জমি না থাকায় সমস্যায় পরতে হয়। তারপরও পিছপা হইনি । চার বছর পূর্বে বাড়ির পার্শ্বস্ত .১৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে সিম চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করি। এরপর প্রতিবছর সিম চাষ করে আসছি।

চলতি মৌসুমে .৩৫ শতক জমি মৌসুমে ৫ মন ধান দেয়ার শর্তে বর্গা নিয়ে সিম চাষ করছেন বলে জানান । এতে নিজের বাড়ির গোবর সার দিয়ে পরিশ্রম করে এবং জমি চাষাবাদে ট্রিলারের খরচ ও বীজ ক্রয় করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। বারি জাতের সিম বীজ রোপনের পর নিড়ানী , সার প্রয়োগ স্প্রে’র কাজ তিনি ও তার স্ত্রী নিজেরাই করেন। তবে মাঝে মধ্যে নিড়ানী ও জাংলা দিতে পুরো মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হবে বলেন।

এভাবে সিম চাষকে পেশা হিসেবে গ্রহণের পর থেকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি আব্দুল জলিলকে। তিনি সিম চাষের সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও চলতি মৌসুমে দুই লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে সিম চাষ করে স্ত্রী,ছেলে ও নাতি-নাতনী নিয়ে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখেই দিনাতিপাত করছেন বলে জানান। আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, এপর্যন্ত উপজেলা কৃষি অফিস বা সরকারী ভাবে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বাদশা মিয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন জানান, আব্দুল জলিলকে কৃষি অফিস বা সরকারী ভাবে ভালো পরামর্শ ও সাহায্য সহযোগীতা করতে পারলে তাকে দেখে অনেকে সিম চাষ করে লাভবান হতে পরতেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান ,আমরা এধরনের  প্রদর্শনীতে সব ধরনের সেবা ও সহযোগীতা করতে প্রস্তুত, তিনি এব্যাপারে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ আশা/ নীরব/এস আর/ ৮ই জানুয়ারী, ২০১৭