টাইমস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক: রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলায় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই যুক্তি তর্ক উপস্থাপন চলছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহীদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চে এই যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করছে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৩ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উপস্থাপনের পর এই যুক্তি-তর্ক শুরু হয়। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আরিফ হাসান সুমনের পক্ষে সিজত চ্যাটার্জি, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাতুল্লাহ ওরফে জুয়েলের পক্ষে আইনজীবী মো. আজিজুল হক হাওলাদার, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৫ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌঁসুলি এস এম শফিকুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন।

আর এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের বিরতির পর এই মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত প্রধান আসামি মুফতি আব্দুল হান্নানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবী মুহাম্মদ আলী। রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলার বিচারের একটি ধাপ অতিবাহিত হতেই লেগে গেছে ১৪ বছর। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৮ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দায়রা জজ আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে হাইকোর্টে। বিচারিক আদালতের রায় দেওয়ার আড়াই বছরের মধ্যেই এ শুনানি শুরু হলো।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দায়রা জজ আদালত মুফতি হান্নানসহ ৮ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক। এ ছাড়া এ মামলায় হুজির আরো ছয় জঙ্গিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য এই মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি মুফতি হান্নান সহ কারাবন্দি আসামিরা আপিল দায়ের করেন। পেপারবুক প্রস্তুতের পরে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান প্রধান বিচারপতি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার মামলার যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুরু হলো।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এস আর/ নীরব/হায়াত/ ১০ জানুয়ারি, ২০১৭