অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের উদ্যোগে বুধবার (১৯ এপ্রিল) ‘যদি মেয়ের বয়স ১৮ আর ছেলের ২১ আজ, যাচাই শেষে করুন বিয়ে নিবন্ধনের কাজ’ শীর্ষক শ্লোগানকে সামনে রেখে মোবাইলের মাধ্যমে বয়স যাচাই ও বিবাহ নিবন্ধন প্রকল্প কুড়িগ্রাম জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুভ উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্পটি ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে গাজীপুর থেকে শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি, এম.পি.। ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার এবং নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক নিবন্ধন জনাব খান মোঃ আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রান্তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক খান মোঃ নূরুল আমিন।

এই প্রকল্পের আওতায় বিবাহ নিবন্ধকবৃন্দ বা বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ধর্মীয় ব্যক্তিগণ (মৌলভী, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ইত্যাদি) সরকারের বিদ্যমান অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা-বোর্ড সমূহের অনলাইন ডাটা সেন্টারে নাগরিক ও পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্ম সম্পর্কিত সংরক্ষিত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অপরিণত বয়সের বিবাহ নিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রত্যেকটি বিয়ে নিবন্ধনের সময় বিয়ে নিবন্ধক আবশ্যিকভাবে তাঁর মোবাইল ফোনের সাহায্যে একটি USSD কোড (*১৬১০০#) ডায়াল করে বা ১৬১০০ নম্বরে এসএমএস করে বর-কনের বয়স যাচাই করবেন। উপযুক্ত বয়স নিশ্চিত হলে বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। বিয়ে নিবন্ধক শেষে সিস্টেম প্রদত্ত একটি ১২ ডিজিটের আইডি নম্বর প্রাপ্ত হবেন যা সংশ্লিষ্ট বিয়ের নিবন্ধন নম্বর হিসেবে রেজিস্টারে (বালাম বই) সংরক্ষণ করবেন। এ পদ্ধতিতে বর-কনের উভয়পক্ষের একজনকে মোবাইল ফোনের এসএমএস এর মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন সম্পাদন সংক্রান্ত তথ্য প্রেরণ করা হয়। কোথাও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে গৃহীত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার প্রতিকার এবং মোবাইলে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে যে কোনো মোবাইল থেকে জাতীয় হেল্পলাইনে (১০৯) বিনামূল্যে কল করতে হবে।

উল্লেখ্য, জনগণের সেবা প্রাপ্তি আরো সহজ করা, সকলের জন্য সেবা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবার মান উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের ইনোভেশন প্রচেষ্টায় সহায়তা প্রদান করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক ও স্বনির্ভর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র এবং মধ্যম পর্যায়ের উদ্যোগসমূহে উদ্ভাবনী দক্ষতার বিকাশে চালু করা হয় “সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড”। বাংলাদেশ সরকার, ইউএনডিপি ও ইউএসএইড এর সমন্বয়ে গঠিত এ ফান্ড পরিচালিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৮টি রাউন্ডে মোট ১৩৩টি প্রকল্প পুরষ্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গৃহীত সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের ২য় রাউন্ডের প্রকল্প মোবাইলের মাধ্যমে বয়স যাচাই ও বিবাহ নিবন্ধন এর উদ্বোধন করা হলো।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক। এরপরেই উদ্ভাবনী উদ্যোগটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন উদ্যোগটির মূল প্রণেতা কুড়িগ্রাম জেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার জনাব মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী। পরবর্তীতে এ বিষয়ক একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিও চিত্র শেষে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরক্ষণেই বিশেষ অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অতিথিবৃন্দের আপ্যায়নের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এর মহাপরিচালক জনাব মোঃ আবদুল হালিম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব সাহিন আহমেদ চৌধূরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম

জেলায় উপস্থিত ছিলেন নিবন্ধন পরিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের রেজিস্ট্রেশন অফিসেস এর পরিদর্শক জনাব এস এম সাইদুর রহমান, কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার, কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলার সকল কাজীবৃন্দ, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দি চিলড্রেন এর কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় পর্যায়ের এনজিও এর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/নীরব/কামরুল/ ২০ এপ্রিল ২০১৭