বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নে তিস্তা যে একটি বাধা সেটা মানেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে এই নদীর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি আটকে যাচ্ছে বারবার। এদিকে মোদি কথা দিয়েছেন বাংলাদেশকে। কিন্তু আগের অবস্থানে অটল মমতা। সমাধান কী? ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান জানালেন, প্রয়োজনে মমতাকে বাদ দিয়ে একতরফা চুক্তি করবেন তারা।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার আজ শুক্রবার এই সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, তিস্তা নিয়ে আপাতত তিনটি ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের। এক. যৌথ তালিকায় এনে নদীর বিষয়ে কেন্দ্রের এখতিয়ার বাড়ানো। দুই. মমতাকে আরও বোঝানোর চেষ্টা করা এবং তিন. তাতেও কাজ না হলে একতরফা এগোনোর কথা ভাবা।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সফরেই এই চুক্তি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের আগে আগে বেঁকে বসেন মমতা। জানান, বাংলাদেশকে যে পরিমাণ পানি দেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র, সেই পরিমাণ পানি তিস্তায় আসে না।

এরপর গত ছয় বছর ধরেই মমতা অটল রয়েছেন তার অবস্থানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত সপ্তাহের ভারত সফরে অনেক বিষয়ে চুক্তি হলেও তিস্তার বিষয়টি বাদ পড়ে যায়। সফরের দ্বিতীয় দিন দুই পক্ষে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর মোদি অবশ্য কথা বলেন বিষয়টি নিয়ে। বলেন, তার ও শেখ হাসিনা সরকারের বর্তমান মেয়াদেই এই চুক্তি হবে।

বাংলাদেশ ফেরার আগে শেখ হাসিনাও ভারতকে কড়া বার্তা দিয়ে এসেছেন। বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ভর করবে পানিবণ্টনের ওপর। তিস্তার পানি না দিয়ে তোর্সাসহ দুটি নদীর পানিবণ্টনে মমতার প্রস্তাবকেও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভাটির দেশ বাংলাদেশে তিস্তার পানি আসবেই।  modi

দুই দেশের সরকার প্রধান যখন তিস্তা নিয়ে এত কথা বলছেন, তখন মোদি সরকার কিন্তু বসে নেই। ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান আজ জানিয়ে দিলেন, ‘নদীর পানির বিষয়টিকে রাজ্য তালিকা থেকে যৌথ তালিকায় আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র।’ বালিয়ান অবশ্য তিস্তার কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করেননি। তাঁর মতে, নদী যৌথ তালিকায় এলে নানা রাজ্যের মধ্যে নানা মত এড়ানো যাবে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী পানিকে যৌথ তালিকায় আনা নিয়ে রাজ্যগুলির মতামত জানতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি মানস-সঙ্কোশ-তিস্তা-গঙ্গা-মহানদী-গোদাবরীর সংযুক্তির একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথাও বলেন।  নদীকে যৌথ তালিকায় আনতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের কেউ সরকারি ভাবে কিছু না বললেও মনে করছে, আন্তর্জাতিক বিষয়ে কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে রাজ্যের সমস্যার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তোর্সাসহ কয়েকটি নদীতে তিস্তার সঙ্গে যুক্ত করে তারপর বাংলাদেশকে পানি দিতে মমতা যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন, কেন্দ্র তাকে আমল দিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ বলেন, ‘দুই (ভারত ও বাংলাদেশ) দেশের যৌথ বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, সেটাই দিল্লির অবস্থান।’

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/কামরুল/নীরব/ ১৫ এপ্রিল ২০১৭