জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় বা ভাষার ভিত্তিতে আর ভোট চাইতে পারবে না ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি। সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে ঐতিহাসিক এক রায় ঘোষণা করে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস ঠাকুরের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির এক ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন এই রায় দেন।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বজায় রেখেই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। নির্বাচন একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রক্রিয়া। পাশাপাশি, জনপ্রতিনিধিকেও ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে।

ডিভিশন বেঞ্চের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিগত বিষয় প্রতিটি মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আর তাতে হস্তক্ষেপ চলতে পারে না। যদিও এ দিনের রায়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ডিভিশন বেঞ্চের সাত সদস্যের মধ্যে তিন বিচারপতি। তারা মনে করেন, এতে গণতন্ত্রে বাধার সৃষ্টি হবে।

সাংবিধানিক বেঞ্চের সাত বিচারপতির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর, বিচারপতি এম বি লোকুর, এস এ বোড়ে এবং এল এন রাও নির্বাচন থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিচারপতি এ কে গোয়েল, ইউ ইউ ললিত এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এই তিন বিচারপতি এই মতের বিপক্ষে মত দেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাবসহ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে শীর্ষ আদালতের এই রায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল। কারণ উত্তরপ্রদেশে বরাবরই জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয়ে থাকে। রাম মন্দির এবং বাবড়ি মসজিদকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের দিকে ভোট টানার চেষ্টা করে থাকে বলে শোনা যায়। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ হায়াত/ আশা/এস আর/ ২ জানুয়ারী, ২০১৭