টাইমস ওয়ার্ল্ড ডেস্কঃ ক্ষিপ্রগতির জন্য বিখ্যাত চিতাবাঘ ঠাঁই নিতে চলেছে ইতিহাসের পাতায়। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষার পর গবেষকেরা বলছেন, বন্য এই প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। এই সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনও সদ্যই প্রকাশিত হয়েছে।
405cheetah_cubs
গবেষকদলের প্রধান জুয়োলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের ড. সারাহ ডুরান্ট জানিয়েছেন, “লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার স্বভাবের কারণে চিতাবাঘের যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ সহজ নয়। আর এই কারণেই ক্ষিপ্রগতির প্রাণীটির বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সবার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।”
thumb-php
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো বিশ্বে এখন মাত্র ৭ হাজার ১শ’টি দ্রুতগামী চিতা টিকে আছে। তাদের মতে, বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার বাইরেই প্রায় ৭৭ ভাগ চিতার বসবাস। ফলে মানুষের আক্রোশের শিকার হচ্ছে এই প্রাণীটি। পাশাপাশি মানুষের বসতি স্থাপন ও কৃষিকাজের কারণে বনাঞ্চল ক্রমেই উজাড় হয়ে যাওয়ায় বাসস্থান হারাচ্ছে চিতা। শিকারেও টান পড়েছে তাদের। ফলে বিশ্বের বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুততম এই স্তন্যপায়ী প্রজাতিটি।
article-2183092-145c3ac1000005dc-966_634x348
গবেষণায় বলা হয়েছে, এশিয়া থেকে চিতাবাঘের অস্তিত্ব প্রায় মুছেই গেছে। এখনও বিশ্বে যে পরিমাণ চিতা টিকে আছে তার অর্ধেকের বেশি বাস করে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি দেশের বনাঞ্চলে। দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম জিম্বাবুয়েতেই গেলো ১৬ বছরে চিতাবাঘের সংখ্যা ১ হাজার ২শ’ থেকে হ্রাস পেয়ে মাত্র ১৭০ টিতে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, চিতাবাঘের বাসস্থান ও শিকারের ভূমি দখল।

এই প্রসঙ্গে ড. সারাহ ডুরান্ট বলেন, বাসস্থান এবং খাদ্যসংস্থান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চিতাশাবক পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া চামড়ার লোভে পাচারকারীরা চিতাবাঘ হত্যা করে থাকে, যা প্রাণীটিকে বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত করার পেছনে অনেক বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

গবেষকেরা তাই বিপদগ্রস্ত চিতাবাঘকে অবিলম্বে ‘নাজুক’ থেকে ‘বিপন্ন’ প্রজাতির প্রাণীর তালিকায় স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। সুত্র : বিবিসি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/নীরব/হায়াত/ ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬