নিজেদের সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশ থেকে এক মাসের জন্য ৫০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ কিনে নিয়েছে ভারতী এয়ারটেল।

এ নিয়ে গত ৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশের একমাত্র ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) সঙ্গে ভারতী এয়ারটেলের একটি চুক্তি হয়েছে।

রোববার জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। তবে এই ব্যান্ডউইডথ ভারতে ব্যবহার হবে নাকি বাংলাদেশের আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল) অপারেটরদের কাছে বিক্রি করা হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি ওই প্রতিবেদনে।

যোগাযোগ করা হলে বিএসসিসিএলের পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, কক্সবাজার থেকে ভারতের চেন্নাই পর্যন্ত রুটের ৫০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ভারতী এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

দেশটির দু’টি সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে। বিশেষ করে দেশের যেসব ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আইটিসি অপারেটরদের ব্যান্ডউইডথের উপর নির্ভরশীল তাদের গ্রাহকরা সঙ্কটে পড়েছেন। বাংলাদেশের পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইডথ থাকলেও কম মূল্যের কারণে আইটিসি অপারেটররা মূলত ভারত থেকে ব্যান্ডউইডথ সংগ্রহ করে।

এ সম্পর্কে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বা আইএসপিএবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহকারী তিনটি সাবমেরিন কেবল কাটা পড়েছে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

আর এ কারণেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা গতি কম পাচ্ছেন। ইন্টারনেটের ধীরগতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। তবে ২০ জানুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ওই সময় পর্যন্ত সব কেবলের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হবে।

গত মঙ্গলবার ভারতের টাটা ইনডিকম কেবল বা টিআইসি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কয়েক দিন আগে কাটা পড়ে ভারতী এয়ারটেলের ‘আই ২ আই’ সাবমেরিন কেবল। আর গত মাসে সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘আইমিউই’ সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক।

এ বিষয়ে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাবমেরিন কেবলে কোনো সঙ্কট নেই। যারা এ ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করছেন তারা স্বাভাবিক গতিই পাচ্ছেন।’

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এস আর/ নীরব/ আশা/ ৮ই জানুয়ারী, ২০১৭