মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রবেশের সংখ্যা সম্প্রতি তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, শুধুমাত্র গত সপ্তাহেই ২২,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে-যার ফলে রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতায় বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজারে।

প্রায় তিন মাস আগে এই সঙ্কটের সূত্রপাত হয়।

রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল এখনো সামরিক এলাকা হিসেবে সাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে। বার্মিজ সেনাবাহিনী বলছে তারা সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে- তবে ব্যাপকভাবে অভিযোগ রয়েছে যে তারা সাধারণ রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং ধর্ষণ করছে।

মিয়ানমার থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জোনাহ ফিশার বলছেন, হঠাৎ করে কেন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাড়ি দেয়ার সংখ্যা বেড়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে বার্মিজ সামরিক বাহিনী সেখানে এখনো নিয়মিতভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবে এমনও হতে পারে যে সেখানকার মানুষ এখন খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে।

বার্মিজ কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোকে রাখাইন রাজ্যের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। যার ফলে যে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা এর আগে নিয়মিত ত্রাণ পেত, তাদেরকে এখন কোনরকম সাহায্য দেয়া যাচ্ছে না।

সাধারণ মানুষের ওপর যে বার্মিজ সেনারা নির্যাতন চালিয়ে আসছে তা বরাবরই অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। তবে কেন এত মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে সেবিষয়ে তারা কোন ব্যখ্যা দেয়নি।

এরই মধ্যে মিয়ানমারের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত, ইয়াংহি লি মিয়ানমারে এসে পৌছেছেন। নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের জন্য তিনি সেখানে ১২ দিন অবস্থান করবেন। বিবিসি বাংলা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ আশা/ নীরব/এস আর/ ৯ ই জানুয়ারী, ২০১৭