নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে কৃষি নানামূখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। একদিকে জমির পরিমান কমছে, শ্রমিক সংকট প্রকট হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিতে থাকা কৃষি উঃৎপাদনমীলতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সহায়ক হতে পারে প্রযুক্তি। কৃষির শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় মিনি কম্বাইন হারভেস্টর চালু করছে এসিআই লিমিটেড। মাঠ পর্যায়ে পাইলট আকারে ট্রায়াল দেওয়া এ প্রযুক্তি মেলার পরপরই ব্যাপকভাবে সারা দেশে পাওয়া যাবে।

বুধবার (১১ জানুয়ারী) রাজধানীতে কৃষি প্রযুক্তি মেলায় এর উদ্ভোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়। বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপি ৭ম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা ২০১৭ এর উদ্ভোধনী অনুসমানে তিনি মেলা ঘুরে দেখেন। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার এন্ড এক্সিবিউশন প্রাঃ লিমিটেড যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়ের সভাপত্তিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. এমএ মতিন।15969909_1345546232178331_1725880536_n

জানা গেছে, কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশী ও বিদেশী প্রায় ৩৬৫ টি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। বিদেশের প্রায় ১৮ টি দেশের ৪৭ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। সকলের জন্য উন্মক্ত এ মেলা শুক্রবার শেষ হচ্ছে। এখানে কৃষি বিষয়ে যাবতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সেবা পাওয়া যাবে। মেলায় মিনি কম্বাইন হারভেস্টর নিয়ে এসেছে এসিআই। দেশে প্রথমবারের মত চালু করতে যাওয়া এ মেশিনটির মাধ্যমে ধান রোপন বোপন থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াইসহ সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। মেশিনটি সরকারী ভর্তূকি মূলে পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে এসিআই লিমিটেডের প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট নির্বাহি একেএম রইসুল ইসলাম খান বলেন, সাধারণত মিনি কম্বাইন হারভেস্টরের দাম ৭ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু সরকারের প্রচলিত ভর্তূকি কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে। ফলে কৃষরা এটি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনতে পারবে। এছাড়া তার মেলায় পাওয়ার টিলারসহ ট্রাক্টর ও অনান্য ধান কাটা ও মাড়াইয়ের নানাবিধ প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।

ড. এমএ মতিন বলেন, কৃষি ও পল­ী উন্নয়ন করতে হলে গ্রামীন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি পৌছাতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তা সম্প্রসারণ করছে। যা আগে পুরোটাই আমদানি নির্ভর ছিলো। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসিআই লিমিটেড কৃষক বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তার বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং যে উত্কর্ষতা লেগেছে কৃষককেতা স্পষ্ট ভাষায় বোঝাতে হবে। এছাড়া কৃষিতে নতুন নতুন আবিস্কার করলেই হবে না, তা কৃষককে বোঝাতে হবে। কৃষকের ভাষাতেই প্রযুক্তির সব বিষয় তুলে ধরতে হবে। কৃষক যখন প্রযুক্তির নানা আবিস্কার দেখবে তখনই কৃষক সেসব ব্যবহার শুরু করবে। এসব বিষয়ে খেয়াল রেখেই প্রচার চালাতে হবে বলে জানান বক্তারা।