সোমবার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি আমাদেরকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে। তা দেখে আমরা বিমর্ষ হয়েছি। নিশ্চুপ থেকে ভেবেছি, এমনও হয়, হতে পারে! রবিবার রাজধানীর আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় পড়ে থাকা ১৪ বছরের কিশোর আফিফ কাদরীর মরদেহের ছবিটি অনেকের মনে নাড়া দিয়ে গিয়েছে। শিশু সাবিনা যখন জঙ্গি সুমনের স্ত্রীর হাত ধরে ছিল, তখনও ওই ছোট শিশুটি জানতো না আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফেটে উঠবে আত্মঘাতী বোমা। এমন করুণ এবং বিভীষিকাময় পরিণতি আমাদেরকে প্রবলভাবে প্রকম্পিত করেছে। আমরা এমন পরিণতি দেখতে চাই না। যে আফিফ আশকোনায় মারা গেল। মর্গে তার বাবা তানভীর কাদরীর পাশেই এখন তার মরদেহ রাখা হয়েছে। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে তার বাবাও আজ পৃথিবীতে নেই। আর আফিফের যমজ ভাই আর মা এখন কারাগারে। কী ভয়ানক এক পরিণতির চিত্র দেখছি আমরা। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে থাকার মতো খবর এখন গণমাধ্যমে। স্বামীর পথে স্ত্রী-সন্তান হেঁটেছে। জঙ্গিবাদের পথে চলে গিয়েছে পুরো পরিবার। আমরা জেনেছি কেউ যোগাযোগ রাখতে চায় না এই সব পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে। এমনকি দাফনের সময়ও কেউ উপস্থিত থাকতে চান না। সমাজ আর মানুষের ঘৃণাই বয়ে বেড়াচ্ছে সব জঙ্গি আর তাদের পরিবার। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছ্নে, স্বামীর চাপেই বাধ্য হয়ে জঙ্গিবাদে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের স্ত্রীরা। কী মর্মান্তিক খবর। সুখের সংসারগুলো ছারখার হয়ে যাচ্ছে। শেষ হয়েছে মেজর জাহিদের সংসার। নিকটাত্মীয়দের ভাষ্যে জানা যায়, একটি সময়ের পর থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায় পরিবারগুলো। তারপর জঙ্গিবাদের বিশ্বাস মনে-প্রাণে ভর এবং এ সংক্রান্ত ভয়ঙ্কর সব ঘটনার জন্ম দেওয়া। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে যদি পরিবারের অন্য কোন সদস্য বুঝতে পারে বা ধারণা করতে পারে তার নিকট একজন মানুষ হঠাৎ বদলে যাচ্ছে, তখন এই তথ্য পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পারে কি না। এরকম ঘটনা জানানোর মাধ্যমে যদি একজন জঙ্গিকেও এ পথ থেকে বের করে আনা যায়, তাহলে একটি সমগ্র পরিবার বেঁচে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা বলছি, পুলিশ বা গোয়েন্দা পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে সাধারণ জীবনের দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য কী ব্যবস্থা নিতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কোন পরিকল্পনা তাদের আছে। সঠিক পরামর্শ এবং পথ প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। শিক্ষাঙ্গনে জঙ্গিবাদের যে বীজ বুনে দেওয়া চলছে তা উপড়ে ফেলতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে পরিবারের দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ববোধ। সবার আগে সতর্ক হতে হবে তাদেরকেই। যাতে কোনভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে জঙ্গিবাদ। এখানে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা অপরিসীম।এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা। আমরা চাই মগজ ধোলাই এর পেছনে যারা, তাদেরকে খুঁজে বের করা হোক। যে জান্নাতি মিশন নিয়ে বা শহীদ হওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে জঙ্গিরা এসব কাজ করছে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হোক, আত্মহত্যা কখনো শহীদের মর্যাদা এনে দিতে পারে না।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ হায়াত/ নীরব/ ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬