তরুণদের ভেতর ছোট পর্দায় অভিনয় করে যারা সুনাম অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সফলতার এ সিঁড়ি তিনি আরেক ধাপ ডিঙানোর সুযোগ পেলেন এবার। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘দেবী’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। এরই মধ্যে দিন ছয়েক শুটিংও করে ফেলেছেন। তো নীলু চরিত্রে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন? কী কসরতইবা করেছেন চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে? আর দেবীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার শুরুটাওবা কীভাবে করলেন? সবকিছুর উত্তর নিয়ে হাজির হলেন এ অভিনেত্রী—

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট চরিত্রে অভিনয় করছেন, তাও আবার ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমায়—

এটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের যে, আমি হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। নবম শ্রেণীতে প্রথম দেবী উপন্যাসটি পড়েছিলাম। দীর্ঘদিন পর আবার যখন সেটি পড়তে হলো, তখন তা ছিল চিত্রনাট্যের বেশে। দুভাবেই উপন্যাসটির গল্প, চরিত্র অসম্ভব ভালো লেগেছে।

যে যে জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিলেন নীলু চরিত্রেই অভিনয় করবেন—

প্রথমত. দেবী কমবেশি সবারই পড়া। খুব সাধারণ বর্ণনা অথচ অসাধারণ একটি গল্প। দ্বিতীয়ত. নীলু চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের অনেক গল্পে নানাভাবে এসেছে। এসব কারণেই চরিত্রটিকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। বলছিলেন পাঠক হিসেবে এবং ছবির চরিত্র বুঝতে ‘দেবী’ পড়েছেন। তো আলাদা কিছু কি চোখে পড়েছে?

ঠিক তা নয়, আসলে প্রথম যখন দেবী পড়েছি, তখন প্রচুর বই পড়তাম। যে কারণে এটিও অন্য ৮-১০টি উপন্যাসের মতো পড়েছি। তখন তো জানতাম না, আমি একদিন এ গল্পের কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করব। তবে চিত্রনাট্য পড়ার সময় প্রত্যেকটি চরিত্র ধরে ধরে পড়েছি। ফলে পুরো ব্যাপারটাই অন্য রকম ছিল।

কত দিন ধরে এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল ?

ছবিটিতে আমার অভিনয়ের ব্যাপারগুলো নিয়ে গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে কথা শুরু হয়।

সিনেমায় আসার ব্যাপারে অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল ?

সত্যি কথা, আমি ভয়ে ছিলাম। দেবীতে অভিনয় করছি, এটা যখন জানাজানি হয়ে গেল, তখন অনেকেই আমাকে বলছিল— ‘তুমি যে ছবি করতে যাচ্ছো, একটু বুঝেশুনে করো। আমাদের ছবির যে অবস্থা, তাতে তোমার ছবি করাটা ঠিক হবে কিনা।’ আমার পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল। এর একটা কারণ হলো, সিনেমা মানে অনেকেই মনে করেন, এটা নাচ-গান, ফাইট, আর কিছু না। এজন্য চাপ ও ভয় দুটোই ছিল। এমনকি দেবীতে সাইন করার আগের দিন পর্যন্ত আমার সন্দেহ হচ্ছিল। আর প্রথম দিন সাইন করতে গিয়ে তো বাসায়ই ফিরে এসেছিলাম।

হুমায়ূনপত্নী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, এই এক সিনেমায় অভিনয়দক্ষতা দেখাতে পারলেই আপনি নাকি বাংলা সিনেমায় টিকে থাকতে পারেন?

হুমায়ূন আহমেদের গল্প ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের পরিচালনায় কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি। তাই তিনি আমার সম্পর্কে অনেক ধারণা রাখেন। তবে আমার ক্ষেত্রে এ ছবিতে কাজ করা একটু সহজ। কারণ আমি হুমায়ূন আহমেদের অনেক গল্পের, অনেক চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত। তার লেখা বই তো বেশি পড়েছি।

চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে যে কসরত করেছেন—

আমার চরিত্রটি একেবারেই সহজ-সরল। যদিও নীলু চরিত্রটি আমার ঠিক উল্টো। নীলু কথা কম বলে, ও বাসার বড় মেয়ে। আর আমি বেশি কথা বলি, বাসার ছোট মেয়ে। যে কারণে ওই চরিত্রে ঢোকাটাই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম এ চরিত্রে ঢোকার। বাসার দরজা বন্ধ করে রিহার্সেল করতাম। আর এখনো নীলু আমার ওপর সারাক্ষণ ভর করে আছে। মোটকথা এখন পর্যন্ত নীলুকে ধারণ করার চেষ্টা করছি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/নীরব/হায়ত/আশা/৫ এপ্রিল, ২০১৭