আফ্রিকান বন্য হাতির জন্মহার খুব বেশিই ধীর বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ কারণে তাদের ওপর পাচারকারীদের আক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড ইকোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়, এই প্রজাতির হাতিরা বেশি বয়সে প্রজনন শুরু করে। শুধু তাই নয়, হাতির অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় দুই সন্তান জন্মদানের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধানও থাকে বেশি।

গবেষকদের মতে, এই ধীরগতির কারণে সম্প্রতি আফ্রিকান বন্য হাতির সংখ্যা যে ব্যাপক হারে কমছে, তা কাটিয়ে উঠতে ২০-৩০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

ধীরগতির প্রজননের ফলে প্রজাতিটি খুব বেশি বিপদে রয়েছে বলে মনে করছেন সেভ দি এলিফ্যান্টস-এর সায়েন্টিফিক বোর্ডের প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জর্জ উইটমায়ার।

তিনি বলেন, ‘হাতির এই প্রজাতিটির জৈবিক বৈশিষ্ট্যই হলো, এরা এমন একটি ব্যবস্থার জন্য উপযোগী যেখানে তারা ধীরে ধীরে বড় হবে এবং ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়াবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে হাতির দাঁত পাওয়ার জন্য আমরা তাদের ওপর যে পরিমাণ চাপ দিচ্ছি তা তাদের পক্ষে সহ্য করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে।’

আফ্রিকান বন্য হাতি মধ্য আফ্রিকার ঘন বনে বসবাস করে। প্রজাতিটি ওই এলাকার আরেক অধিবাসী সাভান্নাহ হাতির চেয়ে তুলনামূলক ছোট আর বিরল হলেও এরাই বেশি শিকার হচ্ছে পাচারকারীদের।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুসারে ২০০২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আফ্রিকান বন্য হাতির সংখ্যা ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এখনো আরও অনেক তথ্যই অজানা রয়ে গেছে এদের সম্পর্কে।