দানিচ খান জুয়েল, নবাবগঞ্জ : বাংলা নববর্ষের দিনে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাট এলাকার মিনি-কক্সবাজার খ্যাত পর্যটন এলাকায় হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভীড় জমে। সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসববমূখর পরিবেশের। নববর্ষ উপলক্ষে মিনি-কক্সবাজারে বৈশাখী মেলাও বসে। ছিলো নাগরদোলা, মৃৎশিল্পসহ রকমারী গ্রাম্য জিনিসপত্রের বিকিকিনি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এদিন প্রায় কয়েক হাজার দর্শনার্থী পদ্মাপাড়ের মিনি-কক্সবাজারের নির্মল প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয দেখতে ভীড় করেন। তবে সন্ধার পর উপজেলার মৈনটঘাট থেকে বাশঁতলা পযর্ন্ত বিপুল দর্শনার্থীদের যানবাহনের চাপে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যানযটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তি পোহাতে পথচারীদের।

জানা যায়, বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য মনে হবে এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই জায়গাটি পরিচিত হচ্ছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সকালে দর্শনার্থীদের আগমন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উৎসবের জনপদে পরিনত হয়েছে স্থানটি। এছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার কয়েক হাজার দর্শনার্থীর আনাগোনা হয় পদ্মার তীরবর্তী এলাকা দোহার মিনি কক্সবাজারে।

ডানে-বাঁয়ে বালু চিকচিক করা স্থলভূমি থাকলেও সামনে শুধু রুপোর মতো চকচকে পানি। মৈনট পদ্মাপাড়ের একটি খেয়াঘাট। এখান থেকে প্রতিদিন ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে। খেয়া পারাপারের জন্য জায়গাটির পরিচিতি ছিল বেশ আগে থেকেই। তবে এখন সেটা রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার ভ্রমনপিপাসুদের বেড়ানোর জায়গা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এত দিন অনেকটা আড়ালে থাকলেও ঢাকার কাছে বেড়ানোর ‘হটস্পট’ এখন এই মৈনটঘাট। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া মৈনটঘাটের নতুন নাম হলো মিনি কক্সবাজার! আর রাজধানীর কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সাথে অন্যরকমভাবে সঙ্গ দিয়ে পহেলা বৈশাখ পালনে সকাল থেকে এখানে ছুটে আসছে মানুষ। তাকিয়ে থাকে পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। মৈনটঘাটটি প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার দর্শানার্থী এখানে উপস্থিত হয় বলে দর্শনার্থীদের ধারণা করেছে। তবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

এছাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বসে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্যারিষ্টার নাজমূল হুদার শাইনপুকুরের বাড়ী, নারিশা ডাক বাংলো, জয়পাড়ার ব্যনিজ্য মেলাসহ আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান দিনভর পযর্টকদের পদচারনায় মুখরিত ছিলো। নববর্ষের দিন বিভিন্ন বয়সের মানুষের বাঙালী ঐতিহ্যর সাজে নানা রংয়ের অঙ্গসজ্জা ছিলো চোখে পড়ার মতো। বৈশাখী মেলা থেকে অনেকে মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজসপত্রসহ শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা ক্রয় করেন।

এক দর্শনার্থী সুমন আহম্মেদ বলেন, “ট্রাক ভাড়া করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে হিন্দি গানের সুরে ও বিভিন্ন বাদ্যর তালে তালে কিশোর-তরুনদের উন্মত নাচ বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।”

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/নীরব/হায়াত/ ১৫ এপ্রিল ২০১৭