মুসলমানের বিয়েতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো মোহরানা বা দেন মোহর। যাকে আরবি ভাষায় মাহর বা মোহর বলা হয়। মোহরের নির্দিষ্ট কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। পারস্পরিক সমঝোতা ও সামর্থ্যরে ওপর ভিত্তি করে মোহর কমবেশি হতে পারে। সাধারণ দিনমজুর ও কোটিপতির কন্যার এক মোহর হবে না।

অনুরূপভাবে রাজা-বাদশা বা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকের বিয়েতে মোহরও হবে তার আভিজাত্য ও কৌলিন্য অনুপাতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই তখন মোহরের পরিমাণ বেড়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে চাও এবং তাদের একজনকে অগাধ সম্পদও দিয়ে থাক, তবুও সেখান থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না। (সূরা নিসা : আয়াত ২০)

বর্ণিত আছে, হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) -এর কন্যা উম্মে কুলছুমকে চল্লিশ হাজার দিরহাম মোহর দিয়ে বিয়ে করেন। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ১৪১১৯)

মোহরের টাকার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল বিবেচনা হলো পরস্পরের সম্মতি ও সামর্থ্য। নির্দিষ্ট কোনো মোহর সুন্নত নয়। এটাই শরিয়তের নির্দেশ। কিন্তু অনেকে মনে করেন, মোহরে ফাতেমি সুন্নত। মোহরে ফাতেমি হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.) -এর বিয়ের মোহর। মোহরে ফাতেমির পরিমাণ নির্ণয়েও বেশ মতানৈক্য রয়েছে। যাই হোক, মূল কথা হলো- বিয়ের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমি সুন্নত নয়। নির্দিষ্ট পরিমাণের মোহর সুন্নত হলে রাসুল (সা.) এর বিয়ের মোহরই সুন্নত হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। (ফাতাওয়া শামী : খ. ৯, পৃ. ৪৯৭)

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ হায়াত/ নীরব/ আশা/ ২রা জানুয়ারী ২০১৭, রবিবার