নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিভাবান দুজন উদ্যোক্তাকে সম্মননা দিল বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষনা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। যশোরের মো. আখতার হোসেনের আমদানি নির্ভর গাড়ির পার্টস, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রেসার প্লেট উত্পাদন এবং সাভারের বাইপাইল এলাকায় মো. আনোয়ার উদ্দিনের শতভাগ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উত্পাদনের কারনে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গতকাল বণিক বার্তা এবং বিআইডিএস আয়োজিত “প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০১৬” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উদ্যোক্তাদের সম্মননা তুলে দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল রুমে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।

বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সারা বাংলাদেশে উদোক্তা ছড়িয়ে আছে তাদেরকে সহযোগিতা করছে সরকার। ইতোমধ্যে রফতানিতে নগদ প্রোনোদনা দেওয়া হচ্ছে। ববসা বানিজ্যে যেসব বাধা আছে সেগুলো দূর করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে পাশ্ববতী দেশ থেকে এগিয়ে গেছে মানুষের প্রচেষ্টা আর অক্লান্ত শ্রমে। সততা চেষ্টা এবং একাগ্রতা থাকলে যেকোন কাজেই সফলতা অর্জন সম্ভব। রফতানিতে বহুমুখী আনা হচ্ছে। বাবসায়ী সমাজ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষনা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. কাজী আলী তৌফিক বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব উদ্যোক্তাতের অবদান অনস্বীকার্য। উদ্যোক্তাদের সম্মননা জানানোর মাধ্যমে উত্সাহিত করতে পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি এদেরকে বেড়ে উঠার জন্য আর্থিক ও অবকাঠামো সুবিধা যথাযথভাবে পূরন করতে হবে।

বণিক বার্তা সম্মাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক ও বুদ্ধিজীবি, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহি, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উদর্ধতনরা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, মো. আখতার হোসেনের মেসার্স এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড ফাউন্ড্রি যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে। একটিমাত্র লেদ মেশিন দিয়ে শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানটি এখন ১৫টি লেদ মেশিনসহ ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে যশোর বিসিক ছাড়াও শহরে রয়েছে আরও দু’টি কারখানা। তার এসব কারখানায় উত্পাদিত হচ্ছে গাড়ির ড্রাম, হপর্স, পেসারপ্লেট, ফ্লাইহুইল, গিয়ারবক্স, মেকানিক্যাল জেকসহ ৩৫ ধরণের কৃষি ও মোটর পার্টস। যেগুলো আগে আমদানি হতো ভারত ও পাকিস্তান থেকে।
মো. আখতার হোসেন বলেন, তার কোম্পানির পার্টস শীর্ষস্থানীয় পরিবহন বিশেষ করে ঈগল, হানিফ, একে ট্রাভেলস্্, শ্যামলিসহ বিভিন্ন গাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হবার পর এ ব্যবসায়ে যুক্ত হয়ে বছরে তিন কোটি টাকার মেশিনারিজ ও পার্টস বিক্রি করেছেন।

এইমকো ফুটওয়্যার লিমিটেডের মালিক মো. আনোয়ার উদ্দিন হোসাইনী বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে কোন ধরনের চাকুরিতে যোগদান না করে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মূল্য সংযোজন বিষয়টি তার মননে স্থান করে নেয়। এজন্যই চামড়া ও চামড়াজাত পন্য উত্পাদনকেই বেছে নেন। ২০০২ সালে বন্ধ থাকা লেদার সু কারখানা ক্রয় করে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। মাত্র ১০ জন শ্রমিক নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ৩৫০ জনের বেশি নিয়োমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শতভাগ রফতানিমূখী এ কারখানাটির মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকার বেশি আয় করছে।

মো. আনোয়ার উদ্দিন হোসাইনী বলেন, আগামী পাচ বছরে এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান আর রফতানি আয় তিনগৃন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ আশা/ নীরব/ ৯ ই জানুয়ারী, ২০১৭