সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনার হয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, রাজশাহীর সাবেক জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁদের নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম এসব তথ্য জানান।

নতুন এই নির্বাচন কমিশন গঠনের পর এনটিভি অনলাইন কথা বলেছে কয়েকজন বিশিষ্টজনের সঙ্গে। কমিশন নিয়ে নিচে তাঁদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলো।

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ

চেয়ারম্যান, জানিপপ; প্রোভিসি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস

এক ব্যক্তির ওপর নির্বাচন কমিশন নির্ভর করে না। মূলত এটি একটা টিমওয়ার্ক, বাকি চারজন মিলে সামগ্রিক কাজটি করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পেশাগতভাবে দক্ষ। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন বিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তি। তা ছাড়া ওনার মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এ ছাড়া এ কমিশনে একজন নারী সদস্য আছেন। এটা একটা ইতিবাচক দিক। তবে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এরই মধ্যে শাসক দল এ কমিশনের প্রতি সন্তুষ্ট বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, আর বিএনপি প্রতিক্রিয়া দিলে বোঝা যাবে। তবে সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

অধ্যাপক সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

মূলত সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগের লোক, আমি বলতে চাই না। তবে তিনি ভালো মানুষ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মতো এত বড় কাজ তিনি করতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। আশা ও আশঙ্কা দুটোই আছে। তবে আমরা আশঙ্কার মধ্যে থাকতে চাই না, আশায় থাকতে চাই।

ড. মিল্টন বিশ্বাস

অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আমরা সাধারণ মানুষ। নীতিনির্ধারক নই। আমরা দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে মুক্তি চাই। এগুলো থেকে মুক্তি দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আগে সার্চ কমিটি যা করেছে, সেটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির জন্য ইতিবাচক দিক।

মূলত নির্বাচন কমিশন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আগামী জাতীয় নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে, এটা আমরা সদ্য নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনারের কাছে আশা করি।

ড. সুলতান মাহমুদ রানা

সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আমাদের যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, তাতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। সরকারকে প্রথমে আন্তরিক হতে হবে। সেইসঙ্গে বিএনপিকে আন্তরিকতার সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। আর তাহলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব সূচারুরূপে পালন করতে পারবে। সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

অনুলিখন : সেখ ফয়সাল আহমেদ

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/নীরব/হায়াত/০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭