তুরস্কের গণভোটে বিজয় দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে তিনি স্পষ্টতই সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেয়েছেন এবং এখন সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়িত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হবে আধুনিক তুরষ্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংস্কার।

এ গণভোটে তুরস্কের মানুষ ভোট দিয়েছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটে। এরদোয়ান যখন নিজেকে বিজয়ী দাবি করছিলেন তখন পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আর তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলো ৫১ দশমিক ৩৫ ভাগ আর না ভোটের পক্ষে পড়েছে ৪৮ দশমিক ৬৫ ভাগ ভোট।

নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা দেখেই রাস্তায় নেমে এসেছে এরদোয়ানের সমর্থকরা। ক্ষমতাসীন এ কে পার্টির সদরদপ্তরে সমর্থকরা ভিড় করে এবং তাঁরা স্লোগান দিয়ে, গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাহী ক্ষমতা পেলে তা দেশকে উন্নত করবে।

দেশটির প্রধান দুটি বিরোধী দল ফল এখনো মেনে নেয়নি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু-একটি জায়গায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে এবং দিয়ারবাকির এলাকায় ভোটকেন্দ্রের কাছে গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে।

নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে এ গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে দেশটির শাসনপদ্ধতি পরিবর্তন করে সংসদীয় পদ্ধতির বদলে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির প্রবর্তন করা হবে কি-না।

নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়ের ফলে এরদোয়ানের সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রেসিডেন্ট হবেন নির্বাহী প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সম্পর্ক বজায় থাকবে।

আর প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা বিলুপ্ত করে দুই বা তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ তৈরি করা হবে।

প্রেসিডেন্ট হাতে পাবেন নতুন ক্ষমতা। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন, বাজেট তৈরি করবেন, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের অধিকাংশকে নিয়োগও দেবেন তিনিই এবং ডিক্রি জারি করে কিছু বিষয়ে আইনও করতে পারবেন।

প্রেসিডেন্ট একাই জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারবেন। পার্লামেন্ট আর মন্ত্রীদের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারবে না।

আঙ্কারা থেকে বিবিসি সংবাদদাতা বলছেন, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বিজয় দাবি করলেও বিরোধীরা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভোটের হিসেবে গড়মিল করেছে এবং তাঁরা একে সুপ্রিম ইলেকশন বোর্ডে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে জানিয়েছে।

রিপাবলিকান পিপলস পার্টির অন্তত ৬০ শতাংশ ভোট পুন:গণনার দাবি জানিয়েছে। তবে এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে বিভক্তি আরো শক্ত হয়ে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তাদের ধারণা ব্যর্থ অভূত্থানের পর থেকে নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার চেষ্টায় থাকা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে এবং শেষ পর্যন্ত এটি এক ব্যক্তির শাসনে পরিণত হতে পারে, যেটি হবে কোনো ধরনের ভারসাম্যহীন একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/নীরব/এ আর/হায়াত/ ১৭ এপ্রিল ২০১৭