নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্পদের তথ‌্য গোপন সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা বাতিলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের আবেদনে রুলের শুনানি শেষ হয়েছে, এখন যে কোনো দিন রায় দেবে হাই কোর্ট।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার শুনানি শেষে এই মামলাটি রায়ের জন‌্য অপেক্ষামাণ রেখেছে।

আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জোবাইদা রহমানের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ‌্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন কায়সার কামাল ও রাগীব রউফ।

চিকিৎসক জোবাইদা স্বামী তারেকের সঙ্গে আট বছর ধরে যুক্তরাজ‌্যে রয়েছেন। ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর কর্মস্থলে আর না ফেরায় তাকে বরখাস্ত করে সরকার।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম‌্যান তারেক মুদ্রাপাচারের এক মামলায় দণ্ডিত। তার বিরুদ্ধে দুর্নীর মামলাও রয়েছে কয়েকটি। তারেকের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন।

জোবাইদার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধেও জামাতার দুর্নীতিতে সহায়তার অভিযোগে মামলা চলছে। ওই মামলার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গিয়েও বিফল হয়েছিলেন তিনি।

জোবাইদার বিরুদ্ধে দদুক মামলাটি করেছিল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০০৮ সাল থেকে এর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মাহবুব আলী খানের মেয়ে জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন। তার দুই বছর আগে তারেকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

এ মামলায় হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছিল, তা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হয়েছিল।

গত বছরের ২ নভেম্বর দ্বৈত বেঞ্চ মামলার রুল শুনানি করতে বিব্রতবোধ করে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন।

“প্রধান বিচারপতি তা বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চে পাঠালে সেখানে এর শুনানি শেষ করে আদালত মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন,”  বলেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম।

জোবাইদা রহমানের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, “শীতকালীন অবকাশের আগে গত ৯ নভেম্বর শুনানি শুরু হয়েছিল। আজকে শুনানি শেষ হয়েছে। রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত।”

তারেক, তার স্ত্রী জোবাইদা ও শ্বাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় এ মামলা হয়।

মামলায় তারেক রহমানকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় জোবাইদা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারেক তার স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার দুটি এফডিআর করে দেন। এভাবে জোবাইদা তার স্বামীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। জোবাইদার আবেদনে হাই কোর্ট ওই বছরের ৮ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করে রুল দেয়।

স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিলে গেলে তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই থেকে জোবাইদার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

মামলা স্থগিত চেয়ে জোবাইদার আবেদনে দুদককে বিবাদী করা হয়নি, এরপর গত বছরের এপ্রিলে এ মামলায় দুদক পক্ষভুক্ত হয়।