মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগ রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজেপটি প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উৎপত্তি। এবারের গরমে রাজধানীর অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসবাহিত রোগ। জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর নানা শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দেয়।

মহাখালীর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান এ রোগের লক্ষণ হিসেবে বলেন, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমিবমিভাব, হাত ও পায়ের গিটে এবং আঙ্গুলের গিটে ব্যথা হতে পারে। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে।

শুধু নারী এডিস মশার কামড়েই এই রোগ হতে পারে। সাধারণত মশায় কামড়ানোর ৫ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে বলে তিনি জানান।

মাহমুদুর রহমান জানান, ২০০৫ সালে ভারতে এ রোগের ভয়াবহতা দেখা দিলে, সে সময় ১৪ লাখ মানুষের আক্রান্তের খবর সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে প্রথম এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আপাতত এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। জ্বর ও মাথা ব্যথার চিকিৎসাতেই এ রোগ সেরে ওঠে। তবে মশার কামড় থেকে দূরে থাকতে হবে।

তিনি জানান, এবারই প্রথম দেখা যাচ্ছে এ জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। এজন্য জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণ প্যারাসিটামল ও গা মুছে দিতে হবে। বেশিদিন জ্বর থাকার কথা নয়। সাধারণত চার থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত জ্বর থাকে। তারপর নেমে যাওয়ার কথা। তা না হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে।

অন্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আর সব ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রচুর পানি, শরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল। চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই।

চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশাই এ রোগের বাহক। এ মশা দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে বিকেলে। দিনের বেলা ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা খোলা পানির আধারগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/কে আই/এইচ আর/এ আর/১৫ই মে,২০১৭