শীত সকালের রোদে হাসিতে ঝলমল করছিল জামালপুর সদরের মহেষপুর কালিবাড়ী গ্রামের টমেটো চাষি নাজমুল, খলিল আর আকবর হোসেনের। নাজমুল এবার এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন।

ফলনও হয়েছে ভালো। কাঁচা-পাকা টমেটোয় ভরে গেছে তার ক্ষেত। একই অবস্থা খলিলুর, আকবর ছাড়াও গজারিয়া গ্রামের টমেটো চাষি আবদুল করিম, মিজানুর রহমান, আবদুল লতিফ, লক্ষ্মীরচর গ্রামের মুনজাজ, কাশেম আলী আর হোসেন আলীর। নিজেদের টমেটো ক্ষেতে দাঁড়িয়ে তারা জানালেন এবার ফলন আর দাম দুটোই ভালো থাকায় গেল বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।

টমেটোর মোকাম নামে পরিচিত জামালপুর সদরের নান্দিনা হাট এখন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরগরম থাকছে টমেটো ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে। হাটে পাইকারী দরে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায়। এখান থেকে টমেটো কিনে বড় পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে।

এখানকার বাছাই করা টমেটো ঢাকা হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরেও। জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র জানিয়েছে, এবার জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়েছে জামালপুর সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের চরে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ডক্টর রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর ফলন হয়েছে খুবই ভালো। সব মিলিয়ে এবার জেলায় টমেটো পাওয়া যাবে কমপক্ষে ৫২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এবার টমেটো বিক্রি করে কৃষক বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে বেশ ভালো লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/হায়াত/শোভন/আশা/২১শে ডিসেম্বর ২০১৬