চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের রুপ ধারণ করেছে। অতিষ্ট হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। এমনিতেই এই জেলার শীতে সর্বনিন্ম ও গ্রীস্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। এ অবস্থায় চরম বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছে না চুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ।

জানা গেছে, সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ব্যাংক-বীমা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্যর পিক আওয়ার বলা হয়। অথচ, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ লোডশেডিং থাকায় বিভিন্ন সরকারী অফিস গুলোতে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা সীমিত সময়ের জন্য।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাংক পাড়া ঘুড়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র, মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তোলার জন্য চেক ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় অনেকে টাকা তুলে ফিরে যায়। এছাড়াও ব্যবসায়ী লেনদেনসহ সাধারণ গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকতে হয়। বিদ্যূতের ঘাটতি পূরণ না হলে এর আকার আরো ভয়াবহ হতে পারে।

বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন দোকান খোলার কয়েক মিনিট পরই লোডিশেডিং শুরু হয়। এতে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়। আমরা মনে করি বিদ্যূৎ না থাকা টা স্বাভিক আর থাকা টা অস্বাভাবিক। তাছাড়া নিয়মিত সরবরাহর বিদ্যুতের জন্য আমাদের আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত। অতিতে আমাদের বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। প্রয়োজনে আবার রাজপথে নামবো।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় মাষ্টার পাড়ার গৃহবধু শায়লা ইয়াসমিন জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জন্য সাপ্লাই পানি নিয়মিত পাওয়া যায় না। সংসারের কাজে টিউরওয়ের পানি দিয়ে কাজ করতে হয়। নিয়মিত সাপ্লাই পানি না পেয়েও পৌরসভাকে মাসিক বিল পরিশোধ করতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জাতীয় গ্রীডের একটি বিদ্যুৎ টাওয়ার ভেঙ্গে এবং সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহীতে বিদ্যুতের গ্রীডের সমস্যা ও বেশ কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্রে একই সাথে সংস্কার কাজ চলামান থাকায় চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যু; ঘাটতি দেখা দিয়েছে।  চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। তার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেরা শহরের ৫টি ফিটারে ১২ মেগাওয়াট, আলমডাঙ্গা উপজেলায় সাড়ে ৩ মেগাওয়াট এবং মেহেরপুর সাড়ে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্ত, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ প্রাপ্তির হার একেবারে নগন্য। ২১ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কোন কোন সময় ১৩/১৪ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও ৮/৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তির রেকর্ড রয়েছে। গড়ে মাত্র ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হলেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/নীরব/কে আই/ ১৮ মে ২০১৭