বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এখন বাংলাদেশে চাকরির জন্য প্রত্যেককেই ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়েছেন এমন লোক এখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঘুষ ছাড়া চাকরি নিয়েছেন এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাকে সংবর্ধনা দেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই’সহ সাত দফা দাবিতে যুব ইউনিয়নের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, ‘এমএ, বিএ ও মেট্রিক পাস, শিক্ষাবঞ্চিত সাধারণ নাগরিক কিংবা বড় অফিসার থেকে শুরু করে পিয়নের চাকরি হোক, ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়েছে— এরকম লোকের খোঁজ পেলে আমার কাছে নিয়ে আসবেন। আমি এই প্রেসক্লাবের সামনে তার ছবি সাঁটিয়ে রেখে দেব, যাতে দেশের ১৬ কোটি মানুষ দেখতে পারে।’

স্বাধীন দেশে ঘুষ ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণেই মগবাজার ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে। কাজ শুরু হয়, ছয় মাস পেছালে সেটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। আবার ছয় মাস পেছালে আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। যেটা তিন হাজার কোটি টাকায় শেষ হওয়ার কথা, সেটা দুই লাখ কোটি টাকায়ও শেষ করতে পারে না।

চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে সবার সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সব সরকার আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। অধিকার যেন বাস্তবায়ন হয় সেজন্য সব কিছু করতে হবে। ঘুষ ছাড়া চাকরির দাবির পাশাপাশি বদলি ও পদোন্নতিতে ঘুষ এবং স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

যুব ইউনিয়ন সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুমনা সোমা, সাব্বাহ আলী, রোকনুজ্জামান, জিএম জিলানী শুভ, হাফিজ আদনান রিয়াদ, শেখ আবদুল মান্নান, শিশির চক্রবর্তী, জোনাকি জাহান, রিয়াজ উদ্দিন, খান আসাদুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে ঘুষ ছাড়া চাকরির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে একটি মিছিল বের হলে শাহবাগ শিশুপার্কের সামনে পুলিশ আটকে দেয়। পরে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আসে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/হায়াত/কামরুল/নীরব/২০ এপ্রিল, ২০১৭