কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের বিচক্ষণতায় লাশ উদ্ধারের ৯ ঘন্টা আগেই ধরা পড়েছে দুই খুনি। পুলিশের এ কৃতিত্বের জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছে এলাকাবাসী। কারণ আগের রাতে দুই খুনিকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার না করলে হয়তো শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে উদ্ধার হওয়া শারমিন হত্যাকান্ডের রহস্য কখনোই উন্মোচিত করা যেত না।

জানা গেছে, উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড রহিম মিয়ার টেকে হনাগো বাড়ির পার্শ্বে একটি ডোবা থেকে শুক্রবার সকালে অজ্ঞাত হিসেবে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা গেছে, নিহত তরুণী শারমিন আক্তার (১৮) নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের কালামুন্সি বাজার এলাকার আবুল কালামের মেয়ে। সে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাটঘর এলাকার একটি গার্মেন্টস’ এ চাকরি করে। তার স্বামীর ওই এলাকার মনির আহম্মদ।

এদিকে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ওই এলাকায় দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখে এসআই সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারা চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রহিম মিয়ার টেক এলাকার একটি পরিত্যাক্ত দোকান ঘরের মধ্যে বসে ছিল। আটককৃতরা হচ্ছেন- ফিরোজপুর জেলার মটবাড়ী এলাকার ছগির হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও কোম্পানীঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে কামরুল ইসলাম।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোঃ ফজলে রাব্বি জানান, শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আটককৃত সন্দেহভাজনরা যেহেতু ওই এলাকা থেকে আটক হয়েছে তাই আমরা তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে অস্বীকার করলেও কৌশলে তাদের মোবাইলে রক্ষিত নাম্বারে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চত হওয়ার পর আটককৃত দুজন মেয়েটিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, নিহত শারমীন ও তার স্বামী মনির চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করতো। দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজপুরের গাড়ী চালক রফিকুলের সাথে শারমিনের পরকিয়া প্রেম চলে আসছিল। এর জের ধরে শারমিন রফিকুলের বাবাকে ফোন করে নানা ধরনের কথা বলতো এবং রফিকুল তাকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করতো। তাছাড়া রফিকুলকে স্বামী হিসেবে দাবি করে শারমিন তার কাছে টাকা পয়সা দাবি করতো। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে রফিকুল শারমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরে কোম্পানীগঞ্জের বন্ধু কামরুল ইসলামের সহযোগিতায় শারমিনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের চরকাকঁড়া টেকের বাজার এলাকায় আসে রফিকুল। পরে শারমিনকে কামরুলের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রহিম মিয়ার টেক এলাকায় নিয়ে প্রথমে কামরুল শারমিনের মুখ চেপে ধরে ও পরে প্রেমিক রফিকুল শারমিনের ওড়না দিয়ে গলা পেছিয়ে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববতী ডোবায় ফেলে দেয়।

রফিক ও কামরুলকে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদে তারা শারমিনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করার পর নিহত শারমিনের মা-বাবাকে মোবইলে খবর পাঠায় থানা পুলিশ। পরে শারমিনের মা রোকেয়া খাতুন এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করে এবং তিনি বাদি হয়ে আটককৃত দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪, তারিখ- ০৫/১১/২০১৬ইং।

এদিকে ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে গ্রামবাসীরা জানায়, কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ বিচক্ষণতার সাথে বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুইজনকে সন্দেহজনকভাবে আটক না করলে হয়তো শারমিনের লাশ অজ্ঞাতই থেকে যেত। আর ফিরোজপুরের লোক কোম্পানীগঞ্জে এসে খুন করবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। পুলিশের এ কৃতিত্বের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ মোঃ ফজলে রাব্বিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরকে ধন্যবাদও জানিয়েছে এলাকাবাসী।