বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১/১১’র সরকারের ধারাবাহিকতা চলছে এখনো। ওয়ান ইলেভেনের সরকার মানে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং বেআইনিভাবে একটি সংবিধানসম্মত সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে খাটো করে দেখলে চলবে না। সেদিন গণতন্ত্রকে নির্মূল করে দেশকে বিরাজনীতি করণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দেশপ্রেমিক জনগণ বিশেষ করে বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছিল। তারই ধারবাহিকতা এখনো চলছে। এই সরকার ওয়ান ইলেভেন সরকারের এক্সটেনশন মাত্র। আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে তাদের বেনিফিসিয়ারি। তারা তাদের বিচার করবেনা। কিন্তু এর মানে এই নয়, বিচার হবেনা।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কচি-কাঁচা ভবন মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন মির্জা ফখরুল। চলচ্চিত্রকার মরহুম চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট।

সাংবাদিক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কবি আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজেদুর রহমান সাজু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রফিকুল ইসলাম।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হয় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিচারাধীন মামলাকে প্রভাবিত করছেন। তা না হলে বিচারাধীন মামলা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন কী করে? এ থেকে বোঝা যায়, মামলার রায় কোন দিকে যাবে?

তিনি দেশের চলমান সঙ্কট নিরসনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সমাধান হিসেবে মনে করেন। তা না হলে দেশের কোনো সঙ্কটেরই সমাধান হবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, মরহুম চাষী নজরুল ছিলেন আপাদমস্তক গণতন্ত্রকামী মানুষ। তিনি রাজনীতি, সমাজ ও জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে একত্রিত করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

এছাড়া তাকে স্থায়ীভাবে স্মরণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিএনপি তাতে সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইত্তেফাক

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ আশা/ নীরব/এস আর / ১১ জানুয়ারি, ২০১৭