গত রোববার সকালের একটি ফ্লাইটে লন্ডন গেছেন চিত্রনায়িকা রোজিনা। প্রায় এক মাসের জন্য তার এই সফর। এজন্য এবারের পঞ্চম জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। গতকাল লন্ডন থেকে মুঠোফোনে এ অভিনেত্রী বলেন, শুনলাম এবারের চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজন নিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের মনে অনেক ক্ষোভ ছিল।

বিশেষ করে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন তো বলেই দিয়েছেন যে, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে তিনি আর আসবেন না। আমার কথা হচ্ছে-সঠিক সম্মান না পেলে শিল্পীরা কেনো এফডিসিতে আসবেন। আমি দেশে থাকলেও তো আসতাম না। এভাবে চলতে থাকলে এফডিসিতে একটা সময় সিনিয়র কোনো শিল্পী আর আসতে চাইবে না। আয়োজক যেই থাকুক না কেনো এমন দিবসে সিনিয়র শিল্পীদের উপযুক্ত সম্মান দেয়া প্রয়োজন ছিল।

তাদের দিকে নজর দেয়ার জন্য যথাযথ লোক রাখা প্রয়োজন। এদিকে আলাপকালে রোজিনা জানান, আগামী ১০ই এপ্রিল তিনি লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে তার ভাইয়ের বাসার উদ্দেশে রওনা করবেন। সেখানে পহেলা বৈশাখ শেষে লন্ডনে ফিরে কিছুদিন থাকার পর এপ্রিলের শেষদিকে ঢাকায় ফিরবেন। তিনি বলেন, লন্ডনে বর্তমানে আবহাওয়া বেশ সুন্দর। এখানে এবার বেশ কিছুদিন সময় কাটাব। একটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছি। সেখানে যাবার কথাও ভাবছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি কি করতে পারি। তবে মনটা দেশে পড়ে আছে আমার।

রোজিনা জানান, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে আসতে না পারলেও তিনি প্রতিনিয়ত এ বিষয়ক সংবাদ দেখছেন। এ প্রসঙ্গে বলেন, বেশ আফসোস লাগে যখন শুনি কোনো সিনিয়র শিল্পী এফডিসিতে এসে কষ্ট পেয়েছেন। যারা এফডিসিতে লম্বা সময় কাজ করেছেন, ভালোবেসে তারা এখনও আসতে চান এ জায়গাটিকে নিজের ঘর মনে করে। তারা যদি এসে কষ্ট পান তাহলে জুনিয়র শিল্পীরা এখান থেকে কি শিখবেন! আমাদের এখনও অনেক কিছু গুছিয়ে এগুতে হবে। সামনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে একটা পরিবর্তন আসা দরকার।

কাজ করতে পারবে এমন মানুষ সংগঠনগুলোতে থাকা দরকার। প্রযোজক সমিতি তো সরকারের হাতে চলে গিয়েছে। অথচ এখানে নেতৃত্ব দেয়ার মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল। রোজিনা সবশেষ ‘বিবিসাব’ নামে একটি নাটকে কাজ করেছেন। নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুনের লেখা মঞ্চনাটক ‘বিবিসাব’-এর অনুপ্রেরণায় এর চিত্রনাট্য করেন নির্মাতা তারিক মুহম্মদ হাসান। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ইন্তেখাব দিনার।

এছাড়া তিনি ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহার জনপ্রিয় ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বরঙ’-এর একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়েছেন। আসছে বৈশাখ উপলক্ষে এই ফ্যাশন হাউজের ফটোসেশনেও কিছুদিন আগে অংশ নিয়েছেন তিনি। এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে রোজিনা তার নিজ গ্রাম গোয়ালন্দের কুমড়াকান্দিতে রাজাকার আলবদর দ্বারা ক্ষতবিক্ষত একটি পরিবারের কাহিনীকে ঘিরে একটি ছবির গল্প লিখেছেন। নাম ‘বীরাঙ্গনা’।

ছবিটি সরকারি অনুদানের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমাও দিয়েছেন। এরইমধ্যে প্রাথমিক বাছাই হয়েছে। সেখানে তার গল্প নির্বাচিত হয়েছে। এবার চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় তিনি। ছবিটির চিত্রনাট্যও রোজিনার নিজের লেখা। এ ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করবেন তিনি। আলাপকালে সবশেষে রোজিনা বলেন, বেশ যত্ন নিয়ে কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে। এফডিসিতে অনেক স্মৃতি রয়েছে আমার।

তাই এই এফডিসি থেকে কোনো অন্যায় হচ্ছে শুনলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। অনেক নতুন মানুষ এখানে কাজ করছে এটা সত্যি। কিন্তু তাই বলে আমাদের সত্ত্বা বিকিয়ে দিলে চলবে না। সবকিছু ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। আমি লন্ডনে থাকি বা বাংলাদেশে থাকি এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্যই আজ আমি রোজিনা। এটা কখনই ভুলতে পারব না এবং ভুলতে কখনো চাইও না।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/নীরব/হায়াত/আশা/৬ এপ্রিল, ২০১৭