বাইজি ডলফিন, স্পিক্সেস ম্যাকাও পাখি, লিভারপুল কবুতর, ওয়েস্ট আফ্রিকান গণ্ডার – গত প্রায় এক দশকে এগুলোসহ আরও বেশ কিছু প্রজাতির প্রাণী টিকে থাকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিলুপ্তির পথে গিয়েও আবার ফিরে এসেছে কচ্ছপের একটি প্রজাতি, তাও আবার একটি মাত্র কচ্ছপের ‘প্রচেষ্টায়’!

গ্যালাপাগোস জায়ান্ট টরটোয়েস-এর এক প্রজাতির অংশ ডিয়েগো নামের এই পুরুষ কচ্ছপটি। শতবর্ষী এই কচ্ছপ একাই ৮শ’টির মতো সন্তানের বাবা হওয়ার সাফল্য দেখিয়েছে। ব্যাপক হারে বংশবৃদ্ধি করে এভাবেই নিজের প্রজাতিকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হওয়া ঠেকিয়েছে ডিয়েগো।

প্রায় ১ মিটার লম্বা আর দেড় মিটার উঁচু ডিয়েগোর ওজন প্রায় ৮৩ কিলোগ্রাম। কচ্ছপটি প্রথমে স্যান ডিয়েগো চিড়িয়াখানার অধিবাসী ছিল। এরপর গ্যালাপাগোস দ্বীপে তার প্রজাতি ‘কেলোনোইডিস হুডেনসিস’কে (Chelonoidis hoodensis) সনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।

৫০ বছর আগে পুরো দ্বীপে ওই প্রজাতির মাত্র দু’টি পুরুষ আর ১২টি নারী কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু তারা এতটাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করত যে তারা ঠিকঠাক বংশবৃদ্ধি করতে পারছিল না।

ওই সময়ই খোঁজ মেলে ডিয়েগোর। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে আরেকটু সাহায্য করতে তাকেও গ্যালাপাগোস দ্বীপে নিয়ে যান বিজ্ঞানীরা। তারপরই নিজের চমক দেখাতে শুরু করে ডিয়েগো। কচ্ছপটির একক প্রজননে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে প্রজাতির কচ্ছপ সংখ্যা।

ডিয়েগোর আবাসস্থল গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের বিশেষজ্ঞ ওয়াশিংটন টাপিয়া বলেন, ‘আমরা কচ্ছপগুলোর ওপর একটি জিনগত গবেষণা করে দেখতে পাই, এস্পানোলায় ছেড়ে দেয়া কেলোনোইডিস হুডেনসিস কচ্ছপগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশেরই বাবা ডিয়েগো।’

তিনি জানান, অতীতে এক সময় গ্যালাপাগোস দ্বীপে এই প্রজাতির ৫ হাজারেরও বেশি কচ্ছপ ছিল। তাই বর্তমানে এর সংখ্যা যথেষ্ট নয়। তবে এখন এর সংখ্যা খুব কমও নয়। বরং বিলুপ্ত হওয়ার বদলে যে এদের সংখ্যা বাড়ছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন টাপিয়া।

প্রজাতি রক্ষায় ব্যস্ত ডিয়েগোর সঙ্গীর সংখ্যা বর্তমানে ছ’জন।