কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে খারাপ আচরণ এবং সরকারি কাজে বাধাঁ দেওয়ার মামলায় মেঘনা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ফেরার পথে পারারবন্দ সেতু এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানাকে ঘেরাও করে। আওয়ামীলীগ ও যুবলীগআগামিকাল বৃহস্পতিবার মেঘনায় হরতাল ঘোষনা। গ্রেফতার হওয়া মেঘনা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং আ’লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মেঘনা থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলার করিমাবাদ গ্রামের একটি খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই সেতু ঢালাই কাজ চলার সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজ নিজে গিয়ে তার দল বল নিয়ে বাধা দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা আক্তার সুমি খবর পেয়ে তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করে। তার অনুরোধ রক্ষা না করে ভাইস চেয়ারম্যান সেতু নির্মাণধীন মালামাল ছুড়ে ফেলে এবং ইউএনওকে অকৈথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। বিষয়টি মেঘনা থানার ওসিকে জানানো হয়।

পরে পুলিশ বাদী হয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়। সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ফেরার পথে পারারবন্দ সেতু এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় । তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নারী পুরুষ রাস্তায় নেমে পড়ে এবং মেঘনা থানাকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখে।

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ লিটন আব্বাসী জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে অথচ তাকে না জানিয়ে ওই সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেতুর কাজ উদ্বোধনের সময় তখন ভাইস চেয়ারম্যান ইউএনওকে বলেন আমি জনপ্রতিনিধি হয়ে আমাকে না জানিয়ে আমার বাড়ির সামনে কাজের উদ্বোধন করেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়।পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ পক্ষ থেকে মেঘনায় হরতালে ঘোষনা দেন এবং ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবী জানান।

মেঘনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস এম সামসুদ্দিন  জানান, সরকারি ত্রানের টাকায় একটি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে খারাপ আচরণের ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার বিকেলে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আই/নীরব/এস আর/ ২২ ডিসেম্বর,২০১৬