দিনাজপুরে ৬৩,৩৪৫ মে. টন আলু বীজের চাহিদা থাকলেও বিএডিসি সরবরাহ করেছে মাত্র ১,৬৬৫ মে. টন বীজ।মানসম্মত বীজের অভাবে বিরলসহ কৃষি নির্ভর জেলা দিনাজপুরের আলু চাষীরা আলু আবাদ করতে গিয়ে পড়েছে বিপাকে। সরকারি সরবরাহ করা মানসম্মত বীজ না পেয়ে স্থানীয়ভাবে নিম্নমানের বীজ সংগ্রহ করে আলু আবাদ শুরু করলেও কাঙ্খিত ফলন নিয়ে তারা রয়েছেন শঙ্কায়। অনেকেই জমি প্রস্তুত করেও বীজ না পেয়ে আলু আবাদ করতে পারছেন না।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, বিরলসহ দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর এই আলু আবাদ করার জন্য বীজের প্রয়োজন মোট ৬৩ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন।

দিনাজপুরে আলূ বীজের মোট চাহিদা ৬৩ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন হলেও সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি সরবরাহ করেছে নামে মাত্র আলুবীজ।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি (বীজ) দিনাজপুরের উপপরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার মোট ১ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন আলু বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব বীজের মধ্যে রয়েছে- গ্র্যানুলা, কার্ডিনাল ও স্টেরিক্স জাতের আলু। ডিলারদের মাধ্যমে এই বীজ কৃষকরা সংগ্রহ করেছে বলে জানান তিনি। চাহিদার তুলনায় আলুবীজ সংকটের কথা স্বীকার করে ড. মাহবুবুর রহমান জানান, জনবলের সংকট ও সরকারি জমির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী আলু বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে সরকারি মানসম্মত এসব বীজের প্রতি কেজি মুল্য ২২ টাকা ও ২৫ টাকা হলেও বাজারে তা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দাম দিয়েও পাচ্ছেন না আলু চাষীরা। বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে বাজার থেকে নিম্নমানের বীজ নিয়ে আলু বপন করছেন কৃষকরা। এতে মানসম্মত বীজ না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন আলু চাষীরা।

বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, আলু আবাদের জন্য মানসম্মত বীজ তারা পাচ্ছেন না। অনেকেই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি অফিসে দিনের পর দিন যোগাযোগ করেও বীজ সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়েই স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে তারা আলু আবাদ করছেন। কেউ কেউ বীজ না পেয়ে আলু আবাদ বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদের কথা ভাবছেন।

dinapur-potato-farming-photo-02
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১২নং রাজারামপুর ইউনিয়নের হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন বিএডিসি অফিসে  সরকারি মানসম্মত আলু বীজ সংগ্রহ করতে পারেন নি। স্থানীয়ভাবে যে বীজ পাওয়া যাচ্ছে তাতে ফলন নিয়ে ভরসা করতে পারছেন না তিনি। তিনি জানান, গতবছর স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে আলু চাষ করার পর প্রতারিত হয়েছেন তিনি। তাই এবার মানসম্মত বীজ না পেয়ে আলু আবাদ বাদ দিয়ে ভুট্টা বা অন্য রবিশস্য আবাদের কথা ভাবছেন তিনি।

একই অবস্থা অন্যান্য আলু চাষীদের। বিরল উপজেলার ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের আলুবাড়ী গ্রামের আলু চাষী নজিবর রহমান জানান, সরকারি মুল্যের চেয়ে বেশী দাম দিয়েও সরকারি মানসম্মত বীজ পাচ্ছেন না তিনি। বাধ্য হয়েই তার এক একর জমিতে স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে আলু বপন করেছেন। এখন ফলন নিয়ে রয়েছেন উদ্বিগ্ন।

বিরলের ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম তালুকদার বীজ সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সরকারি মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় তারা বাজার থেকে ভালো বীজ নিয়ে আলু চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুবা ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল আবাদের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ হায়াত/ নীরব/এস আর/ ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬