আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শাখায় ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত সোনা ও হীরার ব্যাখ্যা দিতে আরও ছয় দিন সময় পেল মালিকপক্ষ। আপন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী তিনজন দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ আজ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে ১৫ দিন সময় প্রার্থনা করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৩ মে পর্যন্ত তাঁদের সময় বাড়ানো হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বেলা ১১টায় শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে আপন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারীদের সশরীরে হাজির হয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত সোনা ও হীরার ব্যাপারে বক্তব্য দিতে সমন জারি করা হয়েছিল। এর আগে গত রবি ও সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান অ্যাভিনিউ, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ার শাখায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত রাখার দায়ে সাময়িকভাবে আটক করে। এই মূল্যবান সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে কোনো ধরনের বৈধ দলিলাদি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ দেখাতে না পারায় এবং প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাই করে এগুলোর আমদানি ও ক্রয়ের উৎস এ দপ্তরের তদন্ত দলের কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এগুলো সাময়িকভাবে আটক করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের জিম্মায় দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আপন জুয়েলার্সের প্রতিটি শাখায় রিপেয়ারিং এবং এক্সচেঞ্জের জন্য যেসব গ্রাহক তাঁদের স্বর্ণ এবং অন্যান্য মূল্যবান অলংকার অক্ষত অবস্থায় গচ্ছিত রেখেছিলেন, তাঁদের ২২ মে সোমবার বেলা দুইটায় সংশ্লিষ্ট শাখায় রসিদসহ উপস্থিত হয়ে সেসব স্বর্ণ, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান অলংকার অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ গ্রাহকদের জানিয়ে দেবে।

প্রত্যেক শাখা সিলগালা করার কারণে আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য যেসব রেজিস্টার্ড দোকানে তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে এবং যেগুলো শুল্ক গোয়েন্দা জব্দ করেছে, সেগুলোর কপি তাদেরকে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করেছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এসব দলিল আগামী বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিলাদি সংগ্রহ করে পুনরায় ২৩ মে বেলা দুইটায় শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যাপারে শুনানিতে অংশ নেবেন।

বনানীর চার তারকা হোটেল ‘দ্য রেইনট্রি’তে গত রোববার শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে ১০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তাদের মদ সংরক্ষণের কোনো বৈধ বার লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য হোটেলের স্বত্বাধিকারীকে আজ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। হোটেল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে এক মাস সময় প্রার্থনার আবেদন করে। তাঁদের সময় প্রার্থনার আবেদনে অসুস্থতার কারণে মালিক শুনানিতে উপস্থিতি হতে অপারগতার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও এর পক্ষে কোনো চিকিৎসা সনদ দাখিল করা হয়নি। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ২২ মে সোমবার পর্যন্ত সময় আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ২৩ মে বেলা ১১টায় দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের পুনরায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করবে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/নীরব/কে আই/ ১৭ মে ২০১৭