ইসমাঈল সিরাজি ও দানিচ খান জুয়েল, দোহার থেকে: দীর্ঘ পাচঁটি বছর অতিবাহিত হলেও আজও অসম্পন্ন ঢাকা দক্ষিনের তিন উপজেলা দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের মধ্যে অবস্থিত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের অবশিষ্ট কাজের । মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর ঘোষনার পর এই পাচঁ বছরে উল্লেখ্যযোগ্য সরকারী আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতি বিজরিত এই স্থাপনাটি এখনো রয়েছে অবহেলিত। এর ফলে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ও দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ।

জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ ই মার্চ দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নে পোদ্দারবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর এর কাজ সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সাবেক র্নিবাহী কর্মকতা আল-আমিন এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেন এবং মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দোকান বিক্রয় বাবদ আরো প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকা এ পযর্ন্ত এর আংশিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সংকটে এর অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

DSC_0020

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,পোদ্দারবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরটি দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের পোদ্দারবাড়ীতে অবস্থিত । ১৯৭১ সালে দোহার উপজেলার এই বাড়িটির ভিতরে অবস্থান করে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতেন। স্থানীয়রা তৎকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের গোত্রের (বংশ) নামানুসারে সবাই একে পোদ্দারবাড়ী বলে চেনেন। পোদ্দারদের অগাধ সম্পত্তি আর আর্থিক অবস্থা উন্নত হওয়ায় এলাকায় তাদের উল্লেখ্যযোগ্য প্রভাব ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকহানাদার বাহিনী দোহার উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালালে পোদ্দাররা তাদের পৈত্রিক বাড়ি ও অগাধ সম্পত্তি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলে যায়। এরপর পরিত্যক্ত এই বাড়িটি হয়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাটি।

পোদ্দারবাড়ী যুদ্ধের পর হতে সরকারী সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এখানে অবস্থান করতেন সরকারী সব আমলারা। দীর্ঘদিন এখানে স্থানীয় তফসিল অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ সপরিবারে বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি আজও সেখানে অম্লান । তাই সেই স্মৃতি কে ধরে রাখতে গত ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-আমিন বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর করার ঘোষনা দেন এবং সে অনুযায়ী পোদ্দারবাড়ী বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

_MG_0468
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমকে বলেন,“বর্তমানে পরিত্যাক্ত বাড়িটি অরক্ষিত থাকায় স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীরা এখানে মাদক ও নানা অপকর্ম করে। আমি সব কিছু জানলেও এর কোন প্রতিকার করতে পারছি না। প্রতিকার করতে হলে অতি দ্রুত এর বাকি উন্নয়ন কাজ শেষ করা জরুরী। কিন্তু টাকার অভাবে সেটা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ কওে বলেন,“একটি কুচক্রি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এর উন্নয়নে বাধাঁ হয়ে দাড়াচ্ছে”।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী খান অভিযোগ করে বলেন , র্দীঘ চার বছরেও সরকারী কোন আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরটির উল্লেখ্যযোগ্য কোন উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত এই স্থাপনাটির উন্নয়নে ও এর বাস্তবায়নে সরকার আমাদের দ্রুত সহায়তা করুক”।

_SHA0493

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা আরো বলেন,“ আমরা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরটি মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি সহকারে ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ের নানা স্মৃতি লিখিতাকারে রেখে এটি সাজাতে চাই। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজম্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব হয়”।

অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন বলেন, “আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হাজারও স্মৃতি জরিত এই বাড়ীটির সাথে। এখান থেকেই আমরা পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরি। আমারা চাই এর অবশিষ্ট কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়”। একই দাবী জানান বীর মুক্তিযুদ্ধা আলাউদ্দিন,মোঃ রুকুন উদ্দিন,নুরুল হক খন্দকার,মোঃ আবুল হোসেন,মোঃ মোশারফ হোসেন,ছোরহাব উদ্দিন ও কমান্ডার বোরহান উদ্দিনসহ আরো অনেকে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/কামরুল/নীরব/ ১৭ এপ্রিল ২০১৭